আইরীন কাকলী এর কবিতা।। ঈদ সংখ্যা ২০১৮

শুক্রবার, জুন ১৫, ২০১৮ ৬:৫১ অপরাহ্ণ
Share Button

 

প্রতিদিনকার মলিনতায়

 

শক্ত মুঠোয় কে যেন অন্তরটাকে নিংড়ে নিচ্ছে।
অনুভবের বিষপাত্রে ঝলসানো ভাবনা
ক্রমেই পুড়িয়ে মারছে একটা স্বপ্নকে।

স্বপ্নটা ঘুমাতুর চোখের কম্পনে আসে না-
ক্লান্ত হৃৎপিণ্ডের গুহায় নিতান্তই
চোরের মত ভীতু বিহ্বল হয়ে ঢোকে।
মেঘের মত হামাগুড়ি দিয়ে চলে-
রং বদলায়,
কখনো ধূসর মলিনতায়
লুটিয়ে পরে জীবনের কপট পায়ে।

প্রতিদিনকার মলিনতা যেন বিশুদ্ধ একটা
স্বপ্নের জন্ম দেয়;
সমস্ত অন্তরকে অধিকার করে বসে একটাই চাওয়া।
চাওয়াটা জীবন্ত আর স্বপ্নাতুর,
ব্যগ্র অনুভূতিতে সর্বদা ইতস্তত।

দীগন্তলীন সমুদ্রের অদেখা থেকে
আগুয়ান জাহাজের মতোই
নিঃশব্দে আসে স্বপ্ন ভঙ্গের বুল্ডোজার।

সহসা থমকে দাঁড়ায়,
অবিশ্বাসের লাল চোখে
স্বপ্ন তখন ভারী জল হয়ে বেরিয়ে আসে….
নিতান্তই অসহায় আর নিরুপায় সে জল।
ইট চাপা ঘাসের মতো
চাওয়াগুলো ফ্যাকাসে হতে থাকে।

কপট মুঠোয় কে যেন
অন্তরের কোমল বিশ্বাসগুলো নিংড়ে
অনুভবের বিষপাত্রে সঞ্চয় করছে…..

আর ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠছে
স্বপ্নকোমল অন্তরের অনুভব।

 

কষ্ট কাজল

একফালি কাজলে আটকে পরেছে চোখের জল।
তারপর তুমি আমি দূর থেকে বহুদূর….

অবহেলার অপরাহ্নে বালিশ ভেজা দুঃখেরা
প্রস্তর পাথর হয়ে
নানা রকম ভাস্কর্যের রূপ বদলে ব্যাস্ত।

কিন্তু আর কতদিন দুঃখ লুকানোর খেলা চলবে।
বিরতিতে যেতে চাই এবার…..

 

স্বপ্নে পাওয়া তারার আশীর্বাদ

( উৎসর্গ: প্রিয় মা’ কে…)

বেখেয়ালি ঘুমের ঘোরে,
আলোর দেশের অন্ধকারের ছায়াপথে
তুমি আমার ঐ প্রিয় শুকতারা হয়ে নেমে এসেছিলে।

একপলক তোমার বুকে মাথা রেখেছিলাম।
স্বপ্নের দেয়াল ঘেঁষে থাকা
আশার বিবর্ণ পোস্টার গুলো
দেখলে তুমি,
কাঁদলে তুমি,
হাসলে তুমি,
আর আশীর্বাদ করলে তুমি।
.
হঠাৎ ই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া
কেরোসিনের প্রদীপের মতই চলে গেলে।
.
সেই প্রদীপের আমি নতুন সুতো।
তুমি তোমার সর্বস্ব গুন আর সততার নূর
আশীর্বাদ স্বরূপ আমায় দানিলে।
.
আর আমি জ্বলে উঠলাম
নশ্বর এই মাটির ঘরে-
খুব যতনে জ্বালালাম তোমার স্বপ্নপ্রদীপ।

 

মৃত্যুকে শুনতে পাই

স্বপ্নের ঝলকানিতে উজ্জ্বল মৃত্যুর তরঙ্গ যখন
মাগরেবি ছায়ায় এসে থামে ;
বজ্রের হুংকারে মৃত্যুকে শুনতে পাই তখন….
কাঁটাতার পেরিয়ে হড়বড় হামাগুড়িতে আসছে ধেয়ে।

জানি আসছে,
জানি আসবে ….
পেন্সিলে আঁকা সিঁড়িরর ওপারে
কাঁচের দরজা পেরিয়ে নিয়ে যাবে
মেঘরঙা শূণ্যতায়।
যে শূণ্যতায় হারিয়েছিল কয়েকটা প্রিয়মুখ।

 

চোরাকাঁটা অভিমান

স্থায়ী অতীতের আঁচলে চোরাকাঁটা অভিমান
স্মৃতির পাতায় দেয় নেশাতুর ঘুম।
সাজানো মৃত্যুর ডালা অপলক এলোমেলো হয়ে
রূপ নেয় আত্মহননের বিভৎসতায়।

এই কি ছিল…?
অথচ সে স্বপ্ন দেখেছিল
স্বার্গীয় পবিত্রতায় নিমগ্ন
একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের…
যে ভবিষ্যতে রাত্রি দ্বিপ্রহর ও
সুখের ছোঁয়ায় কাটিয়ে ওঠে বেদনার ঘোর।

Share Button

আপনার মতামত দিন