একগুচ্ছ কবিতা।। জয়নাল আবেদীন

রবিবার, মে ১৩, ২০১৮ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
Share Button

অধিকার যেন লুটের কম্বল!

এমনই এক সভ্যতার পেট
গিলে গিলে খায় আশার সমস্ত কচুরিপানা,
জীবনের মুক্ত স্রোত-কচু পাতার জল যেন
ক্ষণিক হাওয়ার ছোঁয়া লেগেই
পতনের শেষ ধাপ।

তবুও ভেঁজা জল পাট্টির আলতো ছাপচিত্র
নক্ষত্রের গায়ে ক্ষত চিহ্নরূপে এঁটে থাকে।
বাসী ফুলের মরা গন্ধে ঘুরপাক খায়
নিশিন্দা বেশ্যাবাড়ির বরযাত্রী।
চাঁদের পোড়া দাগ ছুঁয়ে শপথ নেয়-
মাধুকরী শুঁয়োপোকা।

নিয়তির করালগ্রাসে আবদ্ধতায় জাবর কাটে
জীবনের সব কক্ষপথ,
মরা মাচানের লাউ যেন
খোলসেই পড়ে-নেয় বাঁচার শপথ।

মহাকালের মহা গোরস্থানের গাত্রস্তম্ভ
চুনকাম হয় মানবতার রক্তাক্ত দলিলে
জীবন জ্বালানীর তলানি টুকুই যেন সম্বল;
আর বকেয়া অধিকার -এ যেন লুটের কম্বল!

 

এইভাবেইতো গল্প হয়!

জীবনের গল্পটা যেন কাটপিস ছবির অংশ।
ক্ষণে আশা ক্ষণে হতাশা
মাঝে মাঝে আবার
দাঁড়িপাল্লা নিত্তির উপর-নৃত্য করা ক্ষণিকের অতিথি।
ভালবাসার ফুল দিয়ে পূজো দিতেই থাকি নিত্য নতুন আয়োজনে।
ফুলগুলো ও বাসি হতে হতে পাঁপড়িতে বার্ধক্য নেমে আসে –
আনাদরে পতিত হয় সময়ের গহ্বরে।
ভালবাসার ত্রিকোনমিতি আর আঁকা হয় না,
গলা ছেড়ে গাওয়া হয় না উদাসী হৃদয়ের সুর।
প্রেকিকার তুলতুলে দেহেও আসে লাশের শীতলতা
অন্ধ প্রেমিক আমি।
কোলাকোলির চাপেই বুঝে গেছি, কত ভর আমাকে নিতে হবে।
তুমি যদি জানতে নিজের অন্তরকেই খুনের দায়ে ফাঁসির আসামী বানাতে;
কারণ-
সমস্ত পৃথিবীর ভর নিতে রাজি ছিলাম
কেবল তোমার ঐ দু’টি বিশ্বাসী চোখের বিশ্বাসের বিনিময়ে।
জীবনের গলিপথে এইভাবেইতো গল্প হয়!

 

তুমিই আমার প্রথম পাঠ

তুমিই আমার কবিতার প্রথম পাঠ
এবং বিরহের শেষ পৃষ্টা।
যার অবিন্যস্ত উদ্যানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অক্ষরগুলো ধূলোয় গড়াগড়ি করলেও
জোয়ারের বানে ঠিকই কূল উপচায়।

আর আমি-কাগজের নৌকোর মত ভাসতে ভাসতে কখন যে তোমার বুকে বিলীন হই?
এবং ডুবন্ত ডলফিনের মত
নীল আকাশে ডানা মেলা শিকারী পাখির মত
হা-করে টেনে নিই সমস্ত কষ্টের নির্যাস।

অতপরঃ গাঙচিলের বেশে –
তোমার কর্দমাক্ত উঠোনে বিছিয়ে দিই
আমার শুভ্র পালকের ছোঁয়া
এবং বুকের উষ্ণ আলিঙ্গনে বুনি এক একটি শব্দ আর বাক্যের বিন্যাসে আমার স্বপ্নের মায়াজাল।

 

নীল জলের ঢেউ

গোধুলির রক্তিম সূর্যটা হাসতে হাসতে তোমার বুকে বিলিন হয়;
তাই কি তোমার বিরহের পটভূমি?
বুকের বুদবুদ থেকে সৃষ্ট পাহাড় সম ঢেউ
শুষ্ক বালুচরে আঁচড়ে পড়ে- কখন যে মিলিয়ে যায়, তা আমি ছাড়া বুঝার আছে কি কেউ?

তোমার ফেনায়িত জলসাঘরে এসে উঠেছিলাম মেতেছিলাম নুপুরের ছন্দে, বিরহ বাঁশীর সুরে দু’ফোঁটা অশ্রু জল অর্ঘ্য দিতে।
পাথর কণার মত টুকরো টুকরো কষ্টগুলো চেয়েছিলাম তোমার ঢেউয়ের ভাঁজে লুকোতে।

হায়রে অভাগা!
যতটা না নীল তোমার বুকের আঁচল
তার ছেয়ে অনেক প্রশস্ত তোমার কষ্টের নোনাজল। তবুও তোমার আছে একটা কূল
যেখানে এসে ছড়িয়ে দাও সব ভুল।
তোমার নিঃশ্বাসে ফুঁসে ওঠা গর্জন
বালিয়াড়ির ঢালেই দাও বিসর্জন।
আমার দুঃখিনী মন কেবলি খোঁজে সারাক্ষণ তোমার হ্রদয়ের বিশালতায় নগ্ন হবার একটু খানি ক্ষণ।

Share Button