একাকী ভাবনা ও অন্যান্য

সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৭ ১২:০৮ অপরাহ্ণ
Share Button

একাকী ভাবনা

রুমকি আনোয়ার

রাতের বিবর্ণ ধূসর দেয়ালে আমি দেখেছি-
ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের আর্তনাদ ,
পঙ্কিল জীবনের অবসানে মুমূর্ষুর আর্তচিৎকার,
“আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও।”
তারপর জোৎস্না আসে, সহসা আলোয় ভরে যায় দিগন্ত
কিন্তু সেখানেও যে রিক্ত জীবনের হাহাকার, শূন্য প্রতিবিম্ভ,
জোৎস্না ফেলে যায় বীভৎস নগ্নতার চিহ্ন
-সে চিহ্ন এতই স্পষ্ট যে, প্রছন্ন অন্ধকারেও রক্তের রঙ লাল।
অবরুদ্ধ জীবনের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল-
আর কতকাল, কতকাল এ বিবর্ণ, ধুসর, পাংশুর দেয়ালে
মৃতের আর মুমূর্ষুর ছায়া দেখাবে?
জীবনের উত্তর জোৎস্না কি কখনও বিধ্বস্ত হয়, সুন্দর কি কখনও অসুন্দর হয়,
তুমি দেখনি কি নিবিড় আর শুভ্রতায় এরা পরস্পর সংযোজিত
কিন্তু বিগলিত জোস্নায় আমি যে জীবনের স্পন্দন পাই না ।
শূন্যতায় আর শুষ্কতায় সেখানে সবকিছুই মেকি আর কৃত্রিম-
হেসে উঠে জীবন, বক্র হাসিতে উত্তর মিলে-
“তোমার কাঙ্ক্ষিত আলোকবর্তিকায়,
আমি স্বপ্ন আর সুন্দরের ছায়া দেখাতে পারবোনা।”


অন্যান্য দুটি কবিতা

 চরাচর

সংসারের ছেঁড়া পাতায় হঠাতই খুঁজে পেলাম তোমার ছবি,
মনে কি পড়ে আমরা দুজনে একদিন নদী, কাশফুল ছুঁয়ে ছিলাম।
বাবলা গাছের তলে, পার্কে সঙ্গীতে বুনে গেছি স্বপ্নের নক্সিগাঁথা;
অন্তরে-বাহিরে, রাত্রির ছায়াতে দোদুল্যমানতা কেবল আঁচর কেটে যায় ।
রাত্রির প্রগাঢ় আলিঙ্গনে ব্যবহৃত চাদর, তেল চিটচিটে হয়ে আছে
এখনও রজনী, দ্বিজেন্দ্রর গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি;
প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম আজও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে উত্তরীয় পড়িয়ে যায়
তারপরও কেন জানি অযাচিত অনাচারটুকু সন্তর্পণে এড়িয়ে চলি।
ঘাসের ডগায় যখন রোদের উত্তাপ ছুঁয়ে যায় রাতের শিশির
-আমি ঝরা শিউলি কুড়িয়ে মালা গেঁথে চলি চিতাভস্মের স্মরণে
তোমার অন্তর্ধান আমার হৃদয়ে সমুদ্রসিম্ফনি বাজিয়ে গেছে
বেগম আক্তারি, রোশনীবাঈ রাত জাগে প্রহরায়।
কুয়াশার ঠোঁট থেকে কি অনায়াসে শব্দ বেরিয়ে আসে
আজ আমি কবিতা লিখতে শিখেছি লাল অক্ষরের বিন্যাসে
তুমি ভালো নেই বুঝি কাল সারাবেলা কেঁদেছ আমি শুনতে পেয়েছি
অপেক্ষায় থাক এই এলাম বুঝি আটপৌঢ়ে শাড়ি পড়ে।
বাতিঘর ক্ষয়ে গেছে সময়ের আঘাতে
নোনাস্রোত যতটুকু নিয়েছে তারচেয়ে বেশি উত্তর পুরুষেরা
হাভাতের দল হামলে পড়েছে হায়রে! ক্ষুধাক্লিষ্ট যৌবন তোদের অভিশাপ
কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করতে ভালো লাগেনা আমার ।
শুধু জানি কিছু দিয়ে যেতে হবে, মরার পর ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবার ইচ্ছে নেই আমার,
ঘাড়ের ব্যাথাটা বেড়েছে হাত দুটোও অবশপ্রায় , চোখের দীপ্তি নিঃশেষিত
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে দু’ফোঁটা রক্তে কালজয়ী কবিতা লিখব আমি
জানালা খুলে দাও আলো আসুক, আলোরা খুব কম বাঁচে।


এই আমি

কখনও যদি চলে যাই, ফের দূর অজানায়
নীল বিহঙ্গের ডানা মেলে সমুদ্র সৈকতে,
মধ্যাহ্ন খুঁজে ফিরে চেনা অলি-গলি
শঙ্খের মাঝে কেবল মুক্ত খুঁজে ফিরি।
অন্তরে বাহিরে নির্বাসিত আমি
আপন পথ রুদ্ধ করে আপনারে খুঁজি
কে আমি ?
নিজেকে রাঙ্গিয়ে ছিলাম ভিন্ন এক গোধূলি আলোয়
পরানের ভিতর আজ ঠিকানাহীন অন্ধকার,
আমিত্বের আনি যেন চিতায় পুড়ানো কাঠ কয়লা।
দু’চোখে নায়েগ্রার জলপ্রপাত –
এ পথ আমার নয়, এ পথ আমার নয়
আমি ফিরে আসবো,
নারীর চোখে, নদীর চোখে, সর্বহারার চোখে
আদিগন্ত বিস্তৃত বিষণ্ণতাগুলো, ফানুস হয়ে উড়িয়ে দিবো
লুপ্ত বিবেক চেতনায় আঘাত হেনে বলবে
এই আমি….।

www.sahityapuri.com

Share Button