কবি কামরুজ্জামান বাবু’র একগুচ্ছ কবিতা

শুক্রবার, মে ৪, ২০১৮ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
Share Button

 

 

ব্যর্থতা

ছোট্ট কিছু সমস্যা নিয়ে তোলপাড় করেছ,
গ্রহ -গ্রহান্তরে পৌঁছে গেছে অদ্ভুত এই তোলপাড় ;
আমি কথা বলতে পারিনা – এ আর নতুন কি ?
আমি শব্দের ভেতর কথা বলতে পারিনা –
সব শব্দ আমাকে মগ্ন করে, বৃষ্টির শব্দ ,
বাতাসের শব্দ এমনকি ঝরাপাতার শব্দও ।

আমি আলোয় কথা বলতে পারি না –
আলো আমাকে দৃষ্টিমগ্নতায় বিভোর করে রাখে,
আর সব সৌন্দর্য আমার চোখে পড়ে,
পূর্ণিমার আলো আমায় বিরক্ত করে – আমি তোমার সৌন্দর্য ছাড়া
আর কোন সৌন্দর্যে আমার দৃষ্টি ফেলবো না,
তোমার আলোয় আমার জোছনাবিহার হোক।
চাঁদের আলো কেনো ? অমাবস্যাও না -এই যে এখন রেগে আছো,
মায়াবী এই মুখটা যে অন্ধকারে ডুবিয়ে রেখেছো , এই অন্ধকার-ই থাক।
আমি কথার জাল বুনতে পারিনা সীমাবদ্ধ কিছু শব্দে –
তুমি-ই বলো, তোমার দিকে তাকিয়ে যা বলতে হয়,
তোমার কথার উত্তরে যা বলতে হয়,
সেই কথা বলার শব্দ কি ওই কিছু আভিধানিক শব্দই যথেষ্ট ?
তাই তো কথা বলতে শিখিনি । কি এমন শব্দ এই পৃথিবীর বুকে আছে
যে শব্দ বোঝাতে পারে – আমি অনবরত কথা বলি ?
শুধু ঠোঁট নাড়লেই আর ঘন নিঃশ্বাসেই শব্দ হয় ?
আমি ভাষাহীন থাকি কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি ।

তাই তো ভাবি , পার্থিব কোন শব্দ কোন অচেনা শব্দে বলে ফেলি
আর পাছে তুমি ওই মুখ ফিরিয়ে নাও।
আমি আলোহীন থাকি কারণ
তোমার আলোয় আলোকিত হতে আমি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।
তাই তো চাঁদকে পর ভাবি।
দোহাই এবার, আমার শব্দ শোন, আমার বুকে কান পাতো।
শুধু শুধু আমার শব্দ খুঁজে বেড়াও এখানে-সেখানে, শব্দের শব্দে ।

 

আজকাল আমি আর ভালো নেই

 

ইদানিং নিজের কাছে নিজেকেই অসহ্য লাগছে – ভীষণ ;
পেটমোটা দীঘল শরীর নিয়ে হাঁটি, তবু লাগে শূণ্যে হাঁটি
দশ দিগন্তের বৈরী বাতাসেও শরীরে ঘামের আমরণ অনশন
বুঝিবা অন্য গ্রহের মানুষ কিংবা মানহুশ, সব্বাই যেন অপরিপাটি ।

আজকাল আমি আর ভালো নেই , সত্যিই ভালো নেই রে !
আমিই কারে বুঝি না বা কেউ আমারে বুঝে না- তাও বুঝি না –
কি করে বাঁচি নিজের ভেতর নিজের দ্বিধা-দ্বন্দের ছন্দেরে ?
আমার নিজের সহজ বিবেচনায় সব মিলিয়ে আমি শুদ্ধ না ।

 

 

খোঁজ

কতো কিছু আতকে উঠে আমিসহ ;
কেবা খোঁজ রাখে নীল নদীর ধূসর বালুকাবেলার ?
কতোই বা রাত আসছে দিনের পাঁজর ভেঙ্গে আর –
কতোটুকুই বা ঘন হচ্ছে রাতের আবহ ?

কতো কূল – উপকূল , আকুলি – বকুলিদের আখ্যান
কতোকিছুর আনাগোনা , আরাধনা , অবমাননা ,
কতো লগ্নের লগ্নভ্রষ্টতা , ভেতরের আড়ষ্টতা জানা কিংবা অজানা  –
কেবা খুঁজে পাখির ডানায় ভর করে ছায়া ফেলে আকাশ সমান ?

কতো বেলা অবেলা হয় , অবেলা হয় বেলায় ;
কতো ফুল গন্ধ ছড়ায় দুর্গন্ধের বানে , এখানে – ওখানে ,
কতো পাতাই শুকিয়ে ঝরে , হলদে রঙ মাখে , সবুজের মাঝখানে
কেবা খুঁজে কোন ভরসায় , দিন মেলায় কোন খেলায় ?

কতো বড়ো যান , আকাশে উড়ে বিমান , উড়ে বিমানবালা ,
কতো শতো সুন্দরী কমলা সমলা , আখিঁ পাখি , ওরা আর তারা –
কতোকিছু পিষে চলে , মানুষের কোমল শরীরও , তবু পায়তারা
কেবা খুঁজে গেলো চলে নসিমনে , গাঁয়ের পথ ধরে অপ্সরী কাজলা ?

কতো শূণ্যতা ভরে থাকে কতো কষ্টের আজলায়
কতো , কতো বড় বুকের পাটায় , কতো কোঁকায় যৌবনভরা ব্যটা শমশের
কতো জ্বলা দ্বীপ নিভু নিভু , আঁধার অমাবস্যার , ঘাপটি মেরে ফের ;
কেউ আর না – ই বা খুঁজুক , খোঁজ খুঁজুক খোঁজের স্বত্তায় ।

 

  • ব্যবধান

আমার পাপঁড়িগুলো এতোটা বিধ্বস্ত ছিলো না ;
অনেকদিন এরা একে অন্যের শরীর জড়িয়ে ছিল ।
কাঙ্ক্ষিত একজন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিধ্বস্ত করলো ।
আমার ধূসর পাপঁড়িগুলোএমন কখনো ছিলো না –
গাঢ় রঙে টসটসে ছিল ; সে এসে ঘ্রাণ নিক , চাইতেই
শুকিয়ে দিলো নিষ্ঠুরভাবে শুকিয়ে দিলো ।
তাই –
পাপঁড়িগুলো ভীষণ এলোমেলো ।

Share Button