কবি মৃন্ময় চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপচারিতা

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ ২:১৮ অপরাহ্ণ
Share Button

মৃন্ময় চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের একজন কবি ও গদ্যকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রতন রায়। 

রতন রায় : দাদা কেমন আছেন?
মৃন্ময় চক্রবর্তী : এই জটিল দুঃসময়ে যতটুকু থাকা যায়, আছি। তোমরা ভালো তো?
রতন: আমরাও যথাসম্ভব বেঁচে আছি।
আপনার শৈশব ও কৈশোরের গল্প শুনতে চাই।
মৃন্ময় :  আমি খুব সাধারণ পরিবারে জন্মেছি। একটি উদ্বাস্তু পরিবারে। সাতের দশকেও যাদের স্থায়ী আবাস জোটেনি। আমার জন্মের পর আমার মায়ের উৎসাহে বাবা দক্ষিণ কলকাতার শহরতলীতে একটি ছোট জায়গা কিনেছিলেন। সেটি ছিল একটি আধা গ্রামীণ অঞ্চল। শহরের এত কাছাকাছি হওয়া সত্বেও এখানে বহুদিন পরে বিদ্যুৎ আসে। এখানেই আমি বড় হয়েছি। মাঠেঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি, ঘুড়ি, পাখি, ফড়িঙের পিছনে ছুটে, গাছের থেকে ফল পেড়ে খেয়ে, পুকরে নেমে মাছ ধরে, সাঁতার কেটে আনন্দ পেয়েছি। চাঁদনী রাতে ফুটবল খেলেছি। নাটক করেছি, গান গেয়েছি। জীবনের পাঠ নিয়েছি জীবন থেকে।
রতন: আপনি তো দীর্ঘদিন থেকে সাহিত্যচর্চায় মগ্ন আছেন, এর শুরুটা কিভাবে হলো?
মৃন্ময় : এটা বলা বেশ কঠিন। আমি শৈশবে ছবি আঁকতাম, ভাস্কর্য গড়তাম। লেখার কথা কখনো ভাবিনি। অনেক পরে স্কুলজীবনে যখন আমি মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে গেলাম, তখন লিখতে শুরু করি।
এর জন্য আমার সামাজিক, রাজনৈতিক চেতনা কিছুটা হলেও দায়ী। আমার পরিবার ছিল একটি রাজনৈতিক পরিবার। তার প্রভাব আমার উপর এসে পড়া খুব স্বাভাবিক ছিল।
শুরুর দিকে আমি যেসব কবিতা লিখেছি, তার অধিকাংশই ছিল শ্লোগান। সেসবকে এখন আর কবিতা মনে হয় না।
রতন: লেখালেখির শুরুতে কারো দ্বারা কি অনুপ্রেরিত হয়েছেন?
মৃন্ময় : সুকান্তের কবিতা আমাকে তীব্র অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তার রাজনৈতিক চৈতন্য আশ্রিত ছন্দ আমাকে প্রভাবিত করেছে সবচেয়ে বেশী। আমি একসময় নকল করেছি সেইসব ছন্দ এবং ভাব।
তারপর কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরুণ মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, রাম বসু, অমিতাভ দাশগুপ্ত, মণিভূষণ ভট্টাচার্য, নবারুণ ভট্টাচার্য, এঁদের কবিতা আমাকে যারপরনাই প্রভাবিত করেছে, অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বাংলা কবিতার একটি ধারা তৈরি করে গেছেন এঁরা।
এছাড়া জীবনানন্দ দাশ, বিনয় মজুমদার, ভাস্কর চক্রবর্তী, আল মাহমুদ আমার অত্যন্ত প্রিয় কবি। এঁদের কবিতা না পড়লে বাংলাভাষায় কবিতা লেখা যায় না!
আর একজন মানুষ আমাকে প্রেরণা দিয়েছেন। তিনি প্রয়াত কবি মানিক মাঝি। তাঁর ভালোবাসা ভোলার নয়।
রতন: নিজের লেখা প্রথম প্রকাশের স্মৃতি ও অনুভূতি সম্পর্কে কিছু বলুন?
মৃন্ময় : কবি মানিক মাঝি সম্পাদিত ‘শতফুল’ পত্রিকায় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। সে এক মহা আনন্দের বিষয়। তারপর তো অনেক পত্রপত্রিকায় লিখেছি।
রতন: দাদা, কবিতা নিয়ে কিছু বলুন। কবিতা তো একেক জনের কাছে একেক রকম , আপনার কাছে কেমন?
মৃন্ময় : আমার ধারনা কবিতা আর কিছুই নয়, আত্মার প্রকাশ মাত্র। আমি যা বলতে চাই আবার যেকথা নিছক কথা বলা নয় তাই হল কবিতা। আত্মার শিল্পরূপ। আমি সামান্য জানি। আমার মনে হয় আমার এই বলাটি যখন অন্যের আত্মাকে স্পর্শ করে তখন তা সার্থক হয়ে ওঠে। কেউ নিজের জন্য লেখেন না, আঁকেন না।
রতন: আপনার কবিতায় একটি লক্ষণীয়  বিষয় হলো, ক্ষমতাশালীদের কটাক্ষ করে সহজ ভাবে ফুটে ওঠে গণমানুষের কথা, এই গভীরতম বোধটা কিভাবে আসে?
মৃন্ময় : এটা জীবনবোধের অংশ, শ্রেণীচেতনার অভিব্যক্তি। আমি খাটিয়ে শ্রেণীর মানুষ। ফলে আমার যন্ত্রণা, আশা, আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ এগুলো রাজনৈতিক। রাজনৈতিক দল করা না করার বিষয় এটি নয়। গোটা পৃথিবীটা আদ্যন্ত রাজনৈতিক। গতর খাটিয়ে শ্রেণী পৃথিবীর তাবৎ সম্পদের উৎপাদক। আর সামান্য কিছু অলস পরজীবী সেই বিপুল উৎপাদনের মালিক শুধুমাত্র পেশীশক্তির জোরে।
আমি এই অসাম্যকে ঘৃণা করি, আমি এমন একটি দুনিয়ার কথা ভাবি যেখানে সাম্য থাকবে। না খেয়ে কেউ মরবে না। সেই স্বপ্ন বাস্তব কি অবাস্তব সে প্রশ্ন ভিন্ন। কিন্তু আমার অজান্তেই আমার লেখায় পক্ষপাতিত্ব আসে। একদল মানুষকে ভালোবাসি, একদলকে ঘৃণা করি।
রতন: অনেকে বলছেন বর্তমানের কবিতায় ছন্দ হারিয়ে যাচ্ছে, আবার কবি আল মাহমুদ বলেছেন ছন্দ ছাড়া কবিতা হয় না, আপনার কি মনে হয়?
মৃন্ময় : দ্বন্দ্বের বিকাশের একটি নিয়ম আছে, দর্শনের পরিভাষায় তাকে বলে, নেতির নেতি (নেগেশন অফ নেগেশন)। অর্থাৎ পুরাতনকে বাতিল করে নতুন আসে। আবর্তন হয়। আবর্তনে পুরাতন আবার উন্নততর রূপে ফিরে আসে। আমার ধারনায় কবিতায় ছন্দ এবং ছন্দহীনতা দুইই থাকবে। দুটোই কিন্তু ছন্দ। ছন্দহীনতাও ছন্দ। এগুলো উন্নততর হবে। ধার বাড়বে। কিন্তু সত্যটি চিরন্তন থেকে যাবে–সব প্রবাহই শিকড়ের দিকে বয়!
রতন: আপনার মতে, কবিতার কোন গুণগুলো থাকা জরুরি?
মৃন্ময় : হৃদয়গ্রাহ্যতা। কবিতা যেমন সহজেই বুঝতে পারা শ্লোগান বা গল্প হবে না, তেমনি দুর্বোধ্য কিছুও হবেনা। সর্বোপরি সেগুলো হবে মানুষের কথা, তাদের অনুভূতির আলেখ্য।
রতন: দাদা, কবিতায় কি আপনি সমাজ পরিবর্তনে বিশ্বাসী?
মৃন্ময় : সমাজ পরিবর্তনের কাজ কবিতার নয়। যাঁরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করছেন, শিল্প সাহিত্য তাদের চেতনার খোরাক, অক্সিজেন। এটুকুই তার কাজ।
রতন: কবিতার পরিসর অর্থাৎ ব্যপ্তি কতদূর গড়াতে পারে? এই যেমন কবিতা ও মানুষের কথা, সুন্দরের কথা বা শিল্পের কথা- কবিতার কতগুলো ক্ষেত্র আছে বলে আপনি মনে করেন?
মৃন্ময় : কবিতা সরাসরি মানুষের চেতনায়, হৃদয়তন্ত্রীতে আঘাত করতে পারে। তাকে অনুরণিত করতে পারে। আগেই বলেছি কবিতা নিজেই একটি শিল্প। অক্ষর, শব্দ এগুলো তার রঙতুলি। শৈলী হল হাতের মোচড়। যে মোচড়ে একটি অনুপম উচ্চারণের জন্ম হয়।
রতন: কবিতার কতটুকু বন্ধনমুক্তি আপনি আশা করেন?
মৃন্ময়: এ প্রশ্নটি বোধগম্য হল না। কবিতা নিজেই তো একটি মুক্তবিহঙ্গ। কিন্তু যা খুশি তাই লিখলেই কবিতা হয়না, আঁতলামো, মাতলামো হতে পারে। উত্তরাধুনিক, ধুনিক ইত্যাদি ব্রান্ডের তেল বিক্রি হতে পারে, কিন্তু তা কবিতা হবে না কখনো।
রতন: বাংলাসাহিত্যে কবিতার শিল্পোন্নয়নে কী যেতে পারে?
মৃন্ময় : এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা নেই।
রতন: বাংলাসাহিত্যে কবিতার পাখি এক উঠোনে ঘোরাফেরা করছে কিনা!- আপনার কি মনে হয় সাহিত্যের স্বার্থে কবিতার নতুন দিগন্তের প্রয়োজন আছে কিনা?
মৃন্ময় : সময় তা বলবে, আমরা কেউ তা
বলতে পারি না। তবে বাঁকবদল ঘটছে বৈকি। কবিতা ছোট হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। সরল হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ছে।
রতন: দাদা, আপনি তো তরুণদের বেশী বেশী পড়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন। সেদিক থেকে ভাবলে আপনি নিজেও অনেক পড়েন, কাদের লেখা আপনার প্রিয়?
মৃন্ময় : আমার পড়া শুরু হয়েছে বিদেশী সাহিত্য দিয়ে। দেশী সাহিত্য পড়েছি পরে। বলতে গেলে অনেক বলতে হবে, অনেকের কথা বলতে হবে। তবে পুশকিন, গোগল, তলস্তয়, শেকভ, গোর্কি, লুশুন, ডিকেন্স, দস্তেয়ভস্কি, শেক্সপীয়র, গ্যেটে। এঁরা আমাকে প্রভাবিত করেছেন বেশী। পড়েছি মার্কেজ, কামু, কারপেন্তিয়ের, সের্হিও রামিরেজ, নগুগি,কুন্ডেরা।
পরে দেশী সাহিত্য পড়তে গিয়ে মুগ্ধ হয়েছি শরৎচন্দ্রে, মানিকে, প্রেমচাঁদ, কৃষণচন্দরে। উত্তরকালে মহাশ্বেতা দেবী, ইলিয়াস, কায়েস আহমেদ, ওয়ালীউল্লাহ, নাসরিন জাহান,  সৈয়দ শামসুল হক, মধুময় পাল, জাকির তালুকদার, মঞ্জু সরকার, ওয়াসি আহমেদ, নলিনী বেরার লেখায় খুঁজে পেয়েছি স্বদেশ।
খুব বেশী পড়তে পারিনি। আমি খুব কম জানি,কম বুঝি। আমার জানার বাইরে গোটা পৃথিবী পড়ে আছে।
রতন: তরুণ যারা লিখছে, তাদের প্রতি আপনি কতটা আস্থাশীল?
মৃন্ময়: তরুণদের লেখালেখি নিয়ে আমি প্রবল উৎসাহী। বিশেষত যেসব তরুণেরা ফুল পাখি গানের বাইরে গিয়ে স্বদেশ এবং স্বজনের কথা বলতে চেষ্টা করছেন। বাঁচার যুদ্ধের কথা বলতে চাইছেন, তাঁদের কবিতা আজ যত দুর্বল হোক আগামীকাল তা শক্তিশালী হয়ে উঠবেই।
রতন: কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
মৃন্ময় : রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাষার বাঁধুনি শক্ত করে দিয়েছেন। অনেক আধুনিক হয়েছে বাংলাভাষা তাঁর হাতে। তাঁর গান শিক্ষিত বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। প্রেমের কবিতা এবং গীতিকবিতায় আমরা রবীন্দ্রনাথের কাছেই আশ্রয় খুঁজি।
জীবনানন্দ আমাদের এক আশ্চর্য আবিস্কার। বাংলাভাষা তাঁকে পেয়ে ধন্য হয়েছে। আমি প্রথম জীবনানন্দ পড়ি আমার স্কুলপাঠ্যে। সেটি ছিল রূপসী বাঙলার একটি কবিতা। তারপর থেকে তিনি আমার ভেতরে গুপ্ত মৃণালের মত সৌরভ ছড়িয়ে চলেছেন। জীবনানন্দ ছাড়া বাংলা কবিতা অসম্ভব, অসম্পূর্ণ। এছাড়া আর কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই।
রতন: বাংলাদেশের সমসাময়িক কবিদের মধ্যে আপনার কাছে সেরা কে?
মৃন্ময় : সেরা কে এভাবে কি বলা যায় নাকি? তবে জীবিত রয়েছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভালো লেখেন। নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, হেলাল হাফিজ, রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন এঁরা বড় কবি। জহির হাসান, কচি রেজা, সরদার ফারুক, রঞ্জনা বিশ্বাস এঁরা ভালো লিখছেন। তবে জীবিতদের মধ্যে আল মাহমুদ অনেক বড় কবি। এখনো সৌরকরোজ্জ্বল।
পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রে কবি শঙ্খ ঘোষ সর্বাগ্রগণ্য। জীবিতদের মধ্যে যাঁরা আমার প্রিয় তাঁরা হলেন বিভাস রায়চৌধুরী, যশোধরা রায়চৌধুরী, ব্রতী মুখোপাধ্যায়, বিপুল চক্রবর্তী, অংশুমান কর, হিন্দোল ভট্টাচার্য, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রতন: দাদা, আপনার অনুবাদ কবিতাগুলো তো বেশ প্রসংশনীয়, অনুবাদের নেশাটা কেন এলো?
মৃন্ময় : আমি একটি মানসিক দুঃসময়ে কবিতা অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছিলাম। সেটা ২০০৫-৬। এই সময়কালে আমি এশিয়া আফ্রিকা ইউরোপ দক্ষিণ আমেরিকার সংগ্রামী কবিদের বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করি। অবশ্যই ইংরাজি অনুবাদ থেকে। যদিও আমি ইংরাজিতে খুব একটা ভালো নই। পড়াশুনোও করিনি সে ভাষায়। আসলে আমি সেই অর্থে অশিক্ষিত একজন মানুষ। এগুলো একজন অশিক্ষিত স্বশিক্ষিত মানুষের ভালোবাসার কাজ বলতে পারো।
রতন: কতদিন লেখার পর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছিল?
মৃন্ময় : আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলি’ প্রকাশিত হয় ২০০৪ এ। আমার বন্ধু পরিতোষের একান্ত উৎসাহে এবং অর্থানুকূল্যে। দ্বিতীয় বইটিও তাই। তবে সেই বইদুটি উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। কিছু দুর্বল স্বপ্নের সমাহার।
রতন: দাদা, আমি যতদূর জানি তারপর আপনার আর কোন বই প্রকাশ হয়নি, এত দীর্ঘ বিরতি কেন?
মৃন্ময় : আমি একজন অর্থহীন মানুষ। নিজের টাকায় বই প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই। কোনো প্রকাশক আজকাল অনামী অচেনার বই প্রকাশ করার ঝুঁকি নেন না। আমার লেখা তো আর বাণিজ্য দেবে না! ফলে যা হবার হয়েছে।
রতন: লিটিলম্যাগাজিন নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
মৃন্ময় : লিটিলম্যাগাজিন বিগ হাউসকে ফলো করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে। যদিও ছোটপত্রিকা সাহিত্যের আঁতুড়–একথাটি এখনো সত্য। লিটিলম্যাগের উচিত অনামী অচেনাদের, যাঁরা সত্যি ভালো লিখছেন, তাঁদের তুলে আনা। ছোটপত্রিকার সম্পাদককে মেধাবী, সাহিত্যজ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। শুধু টাকা থাকলেই, পত্রিকা প্রকাশ করতে পারলেই হবে না।
রতন: আপনার মনের বয়স কত বলে মনে করেন?
মৃন্ময়: হা হা হা। মনের বয়স তো বাড়েনা, কিন্তু দুশ্চিন্তা মানুষকে বুড়ো করে দেয়। যুগপৎ আছি।
রতন: আপনার মৃত্যু ভাবনা কি রকম?
মৃন্ময় : মৃত্যুচেতনায় ডুবিনি কখনো। জীবনকে বড় ভালোবাসি। জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া আমার হয়নি। তবে বিষণ্ণতা তো আমাকে বহুকাল সঙ্গী করেছে।
রতন: আপনি তো কবিতার পাশাপাশি গল্প, নাটকও বেশ লেখেন, পাঠকের কাছে কি হিসেবে বেঁচে থাকতে চান?
মৃন্ময় : আমি অচেনা আগন্তুক। এখনো ভাবিনি কেউ আমাকে মনে রাখবেন। ভাঙা তারার অণুপরিমাণ ধুলো হতে পারলেই পরম নিশ্চিন্ত হই।
রতন: অনেক ধন্যবাদ দাদা, আমাকে সময় দেওয়ার জন্য।
মৃন্ময়: তোমাকেও অনেক ভালোবাসা।
Share Button