কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯ তম জন্মদিন আজ

শুক্রবার, মে ২৫, ২০১৮ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Share Button

সাহিত্যপুরীঃ আজ ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মদিন। যিনি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা এক কবি। যার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসে আমরা জীবনের জয়গান করি।আমরা তাকে খুুঁজে পাই দ্রোহে, পাই মানবতায়, প্রেমে, সাম্যে, বাঙলা ও বাঙালির সকল আবেগ-অনুভূতিতে।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে আজকের এই দিনে রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াও থাকছে নানা আয়োজন। এতে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তাঁরা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিদ্রোহী সৈনিক নজরুল ছবি: সংগৃহীত

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে বাংলা একাডেমি। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আজ বেলা ১১টায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া শিশু একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে।

প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে পিতা কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
ছোটবেলায় তাঁর ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি।

তিনি বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্যের আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের হৃদয়ে থাকবেন চিরকাল।

Share Button

আপনার মতামত দিন