না ফেরার দেশে শিল্পী বারী সিদ্দিকী

শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
Share Button

সাহিত্যপুরীঃ বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী আর নেই । প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত দুইটা ত্রিশ মিনিটের দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার রাতে (১৭ নভেম্বর) বারী সিদ্দিকী হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
আগে থেকেই তার দুটি কিডনি অকার্যকর ছিল। এছাড়া বহুমূত্র রোগেও ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজি।

বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারি সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাথে যুক্ত হন। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিক এরুপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

জনপ্রিয় এই শিল্পী গাইতেন গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান। তিনি শিল্পী হিসেবে আরও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটিতে গান করার মধ্য দিয়ে। তাঁর গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’, ‘ওগো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো প্রভৃতি গানে শ্রোতা ও ভক্তদের প্রাণে অমর হয়ে থাকবেন তিনি।

Share Button