বেশি পেঁয়াজ খাওয়ার ৭টি ক্ষতিকর প্রভাব।। স্বাস্থ্য টিপস

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৯ ২:১০ অপরাহ্ণ
Share Button

 আসুন জেনে নেই বেশি পেঁয়াজ খাওয়ার ৭টি ক্ষতিকর প্রভাব। যা আপনারও হতে পারে।



(১) অ্যালার্জি

বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য নিয়মিত পেঁয়াজ খাওয়া আমাদের জন্য উপকারী। তবে, পেঁয়াজে অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য খাওয়াটা মোটেই নিরাপদ নয়। কারণ হিসাবে বলা যায়, অ্যালার্জি ও ক্লিনিকাল ইমিউনোলজি জার্নালের একটি নিবন্ধ অনুসারে, অ্যালার্জির অন্যতম উৎস  হচ্ছে পেঁয়াজ। যদি আপনার পেঁয়াজের কারণে অ্যালার্জি হয়, তবে আপনার মনে রাখা উচিত যে, পেঁয়াজ খেলে ত্বক এবং চোখে লালভাব, ত্বকের চুলকানি , শ্বাস নিতে অসুবিধা, শরীর জ্বলন ইত্যাদির মতো অ্যালার্জির লক্ষণগুলির জন্ম দিতে পারে।



(২) অন্ত্রের গ্যাস ও পেটের সমস্যা

জাতীয় হজম রোগ সম্পর্কিত তথ্য ক্লিয়ারিংহাউস এর দেয়া মতামত অনুযায়ী, অনেক বেশি পেঁয়াজ খাওয়ার আর একটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হ’ল আমাদের দেহে অন্ত্রের গ্যাস সৃষ্টি। পেঁয়াজের এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মূলত  ফ্রকটোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করার উপস্থিতির কারণে। কেননা, আমাদের পেট বেশিরভাগ শর্করা হজম করতে খুব দক্ষ নয় । যার মধ্যে ফ্রুকটোজ অন্যতম। চিনি যেহেতু আমাদের পেটে সঠিকভাবে হজম হয় না তাই তারা অন্ত্রগুলিতে প্রবেশ করে যেখানে তারা ব্যাকটিরিয়া দ্বারা ভেঙে যায়। ফলে এই গ্যাস তৈরি হয়। তবে কম পরিমাণে পেঁয়াজ কোনও হুমকি নয়। যদি আপনি খুব বেশি পেঁয়াজ গ্রহণ করেন তবে অন্ত্রের গ্যাসের মাত্রা বাড়তে পারে এবং এটি হজমজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন পেট ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি, পেট ফাঁপা ইত্যাদি।
আপনার পাচনতন্ত্রটি পেঁয়াজের প্রতি অসহিষ্ণু হলে লক্ষণগুলি আরও খারাপ হতে পারে। খাদ্য অসহিষ্ণুতা জীবন হুমকিস্বরূপ নয়, তবে কখনও কখনও এটি বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।



(৩) অম্বলজনিত সমস্যা

পেট ফাঁপছে, বুক জ্বালার সমস্যা কিছুতেই আপনার পিছু ছাড়ছে না। কিন্তু কেন?
আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত ১৯৯০ সালের সমীক্ষা অনুসারে, দেখা গেছে যে অতিরিক্ত পরিমাণে পেঁয়াজ খাওয়া লোকদের অম্বল জাতীয় সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেইসঙ্গে গর্ভবতী মহিলারা রয়েছেন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে ।

অম্বল এমন একটি সমস্যা যার কারণে  বুকে জ্বলন্ত সংবেদন এবং চরম ব্যথা অনুভব হয়। এটি প্রধানত ঘটে যখন আমাদের পেটে উপস্থিত অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উর্ধ্বমুখী প্রবাহিত হয়।
এই কারণে, মাঝারিভাবে পিঁয়াজ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বিশেষত গর্ভবতী মহিলাদের চিকিত্সকের সাথে পরামর্শ করার পরে পেঁয়াজ খাওয়া উচিত।



(৪) অত্যধিক পটাসিয়াম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

পটাশিয়ামের কাজ হলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। তাই শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। সেইদিক  থেকে ভালো সংবাদ যে, পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে।  তবে আপনি যদি খুব বেশি পেঁয়াজ খান তাহলে আপনার শরীরে উল্টো বিক্রিয়া হয়ে খুব অসুবিধে সৃস্টি করতে পারে।
কারণ অনেক বেশি পেঁয়াজ খাওয়া আমাদের রক্তচাপকে বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে আনতে পারে এবং  হাইপোটেনশনের জন্ম দিতে পারে ফলে ক্লান্তি, হালকা মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, হতাশা, ঝাপসা দৃষ্টি ইত্যাদি সমস্যায় পড়তে পারেন।

এ ছাড়াও, আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যে মেডিসিন  গ্রহণ করছেন তবে আপনার ওষুধগুলির জন্য পেঁয়াজ পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত কারণ ওষুধ এবং পেঁয়াজ উভয়ের সম্মিলিত প্রভাব আপনার রক্তচাপকে বিপজ্জনকভাবে নিম্ন স্তরে হ্রাস করতে পারে।



(৫) হৃদপিন্ডের সমস্যা

পেঁয়াজের নিয়মিত ও পরিমিত গ্রহণ আমাদের হৃদয়ের পক্ষে খুব উপকারী । যা আমাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের এই উপকারটি মূলত ভিটামিন, খনিজ, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ইত্যাদির মতো পুষ্টির উপস্থিতির কারণে হয়। পেঁয়াজে উপস্থিত পটাসিয়াম ভাসোডিলেটর হিসাবে কাজ করে যার অর্থ এটি আমাদের রক্তনালীগুলি শিথিল করে এবং আমাদের দেহে রক্ত চলাচলকে উন্নত করে এবং এইভাবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে এটি লক্ষ করা উচিত যে, প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যে হৃদরোগের পক্ষে খুব ভাল নয়। কারণ আমাদের দেহে পটাসিয়ামের উচ্চ মাত্রা  হাইপোটেনশনের জন্ম দিতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে আপনার অনিয়মিত হার্টবিট এমনকি হার্ট স্ট্রোক এর মতো মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারে যেকোনো সময়।



(৬) রক্তের সুগার ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপদজনক হতে পারে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত ও মাঝারি পরিমাণে পেঁয়াজ খাওয়া খুব উপকারী। পেঁয়াজের এই সুবিধাটি মূলত পেঁয়াজের কম গ্লাইসেমিক সূচক হওয়ার কারণে।
পেঁয়াজ খাওয়া রক্তের প্রবাহে ধীরে ধীরে সুগার ছেড়ে দেয় এবং এইভাবে ডায়াবেটিস পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
এগুলি ছাড়াও, পেঁয়াজে উপস্থিত ক্রোমিয়াম যৌগটি ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এটি রক্তের প্রবাহে চিনির শোষণকে ধীর করে দেয়।

খুব বেশি পেঁয়াজ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্ম দেয়। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে নিম্ন স্তরে নামিয়ে আনতে পারে। ফলে অস্পষ্ট দৃষ্টি, দ্রুত হার্টবিট, অনিয়মিত হার্টবিট, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ইত্যাদি  সমস্যা হতে পারে।



(৭) মুখে দুর্গন্ধ

অনেক মানুষই মুখে দুর্গন্ধের সমস্যায় ভোগেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তো বটেই, সারা দিনই মুখে দুর্গন্ধ হয় অনেকের। ফলে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে মুখের দুর্গন্ধ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মুখে বা শ্বাসে দুর্গন্ধ আপনার স্বাহ্যের জন্য কোনো হানিকর সমস্যা না হলেও আপনাকে খুব বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। আর এই দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে অতিরিক্ত পেঁয়াজ খাওয়া থেকে।
কাঁচা পেঁয়াজের এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আপনার মুখ ও শ্বাসকে দীর্ঘসময় ধরে দুর্গন্ধযুক্ত রাখতে পারে।

 

আরও পড়তে পারেন

 

বান্দরবানের অসাধারণ ভ্রমন কাহিনী

Share Button

আপনার মতামত দিন