মাহমুদ হায়াত এর একগুচ্ছ কবিতা

শুক্রবার, জুন ১৫, ২০১৮ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
Share Button

 

ঢেউভাঙা প্রবল বাসনা

একটা লাজুক বিকেলের ঘোমটা টেনে আমি বহুবার দেখেছি……..
কিভাবে জেগে ওঠে একটা তৃষ্ণার্ত নদীর ঢেউভাঙা প্রবল বাসনা।
অনেক বিকেল গড়িয়ে যাওয়া অচৈতন্য ঋষিভালবাসা বুকে ক’রে পার হয়ে গেছি কত বিরান সমুদ্র।
ভালবাসা ছোঁবে ব’লে
আঁছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো থমকে দাঁড়িয়েছে আমার পৃথিবী একদিন এক দ্রাঘিমাংশ সীমানা।
মৌনতার সিঁড়ি ভাংতে গিয়ে কতবার টুকরো হয়ে গেছে বুকের সমস্ত পাটাটন।
জলের সামনে দাঁড়িয়ে কেবল জলই দেখেছি নিজের ছায়া দেখা হয়নি ।
নিজ অক্ষে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়েছে নক্ষত্রমন
হারিয়ে ফেলেছে পরিব্রজ্যা নিজের ছায়া।
তবু নদীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভুলতে পারিনা আজও নদীভালবাসা।

অথচ ভালবাসার চেয়ে উন্মুখ ঢেউগুলো এখন অনেকের খুব বেশি কাছে টানে ।

 

দুটো বৈদ্যুতিক তার

খুব কাছাকাছি ছিল…..
যতটা কাছাকছি থাকলে দুটো বৈদ্যুতিক তার সর্বনাশের খোলস ছেড়ে
আদিমোৎসবে মেতে ওঠে।
কেবল আকাশ ছোঁয়া হয়না আমার,
আকাশ ছোঁব বলে।
একটা অর্কিডদিন ছুঁয়ে গেলে আলস্য বিকেলের ঘুম,
নড়ে চড়ে বসে বুকের বেসুরো বাঁশি।

 

ঐ দুটো চোখ যেন

আহা ঐ দুটো চোখ যেন দু’ফোঁটা জল!
সদ্য নিসৃত পদ্মপাতায় কুয়াশার
আধো-আধো ঝিলে ফোটা শ্বেত শতদল,
অমরত্ব কোন ছত্র গল্প কবিতার।
রাতে ছিট্কে পড়া একফালি জোছনা
চোরা চোখে চাঁদ যেন ক্লান্ত তার খোঁজে।
গোধুলীর বিদায় আয়োজন মূর্ছনা
অর্ঘ্য সাজিয়ে হাতছানি পড়ন্ত সাঁঝে।

আহা সেই চোখ বিদ্ধ করে পৃথিবীকে!
সে ধরা দেয় একবার স্বপ্নের হাতে,
ক্লান্তি মুছে দিতে তার দু’চোখ আমাকে।
তারপর একদিন দূর অজানাতে
সে চলে যায় আর আসে না কভূ ফিরে,
সে কাঁদায় আমাকে মুহূর্তে বুক চিরে…

 

জমির ফেঁকড়া

আঁল টপকিয়ে যে লোকটা অন্যের জমিতে খুটো গাঁড়তো,
একদিন সে খুব রাত্তিরে ঘরে ফিরে
দেখতে পেল,
তার জমিতেও অন্যের লাঙল চলে।
লোকটা সহজেই জমির ফেঁকড়া বুঝতে পেল,
সে রাতে আর লোকটার লাঙল জোড়া হলো না,
লাঙল কাঁধে চেপেই লোকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘুমিয়ে গেল।
আর সেই থেকে লোকটা ছুঁচোর গন্ধ আঁতরে ঢেকে নিয়ম মাফিক তজবি যপে।
যুব্বার নিচে তার কোনো সাপ ফুঁসে উঠলে সে গোঁফে সরিষার তেল মাখে।
তীর্থে যাবার বাসনা তার মনে এখন তুঙ্গে,
লোকটাকে এখন সবাই পাকা আল্লাওয়ালা বলে।

 

পথ থেমে যায়

পথ থেমে যায় চেনা পথে,অচেনা পথের অপেক্ষায়,
পথগুলো সব আঁকা বাঁকা
চেনা পথের অন্তরায়।
ভীড়ের মধ্যে আটকে আছে পা দুটো,
সন্মুখে পথ আগলে আছে দুপুরভাঙা খড়কুটো।

নদী ঘুমায় পাহাড় ঘুমায় মেঘগুলো সব পথহারা,
আকাশবাড়ি ঘুমিয়ে গেলে প্রদিপ জ্বালে চাঁদ তারা।

 

অবিন্যাস্ত ভাবনার অন্তিম অক্ষরে

এমন কোন কবিতা লিখো না,
খোঁয়াব নামার মতো যা লেখা থাকে অবিন্যাস্ত
ভাবনার অন্তিম অক্ষরে ।
ট্রেন ধরবে ব’লে
যে কবিতা সময়ের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ভীড়ের মধ্যে খেই হারিয়ে ফেলে
কবিতা কোন ডা’ল ভাত নয়।

Share Button

আপনার মতামত দিন