হাত বাড়ালেই জীবন

শনিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৭ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Share Button

মুনমুন সরকার

দিনের বেলায় এই শহরটা বিষাদে ভরে ওঠে। কারও সময় নেই। সবাই চলে যাচ্ছে নিজের গতি নিয়ে। পেট তো ভরাতেই হবে। অথচ প্রতিদিন সূর্য যখন আত্মহত্যা করে তখন শহর হয়ে ওঠে মায়াবী। প্রাসাদের আলোর উল্টো দিকে ঢাকা পরে যায় বস্তি আর আবর্জনার স্তূপ। শহর নিজের কায়া ভুলে যায় আর হাতছানি দেয় এসো আমার কাছে একটু সময় নিয়ে।
বস্তিটার বাচ্চাগুলো সারাদিন খেলতে থাকে। কারও গায়ে ছেঁড়াফাটা জামা কারও বা নেই। দুবেলা আধপেটা খেয়েও ওরা খুব খুশি। আর মাত্র তিনটে বছর খেলবে তারপরেই তো রোজগেরে হয়ে যাবে।
পাশ দিয়ে চলে যায় দুধ সাদা গাড়ি। জানালায় মুখ বাড়িয়ে তাকিয়ে থাকে ছোট্ট মেয়েটা। মা বকে, ছিঃ জানালা বন্ধ করো, বিকট গন্ধ আসছে। মায়ের দিকে এক ভয়াল শূন্যতায় তাকায় মেয়েটা আর  হাত মুঠো করে তুলে নেয় না খেতে পাওয়া পেটগুলোর অফুরান আনন্দ।
হারাধন দিনরাত খাটতে থাকে। রোদ আর জল তার বন্ধু। মাঠে সব্জি ফলায় আর নিয়ে আসে এই শহরে। সব থেকে সেরাটা নিয়ে আসে বাবুদের জন্য। দামও একটু বেশি পাওয়া যায়। বাড়ি ফেরে যখন, তখন দুপুর দুটো। ঘরে রান্না হয়ে থাকা পোকায় মাথা মুড়িয়ে দেওয়া ডাঁটা আর কানা বেগুনের ঝোল খুব সুস্বাদু লাগে।
রামরতন বাবুর বাড়ির রান্নার মাসির মাইনে অনেক বেশি। রোজ পঞ্চব্যঞ্জন হয়। কিন্তু না ভরে মন আর না ভরে পেট। সব কিছুই বিস্বাদ। অথচ বাজারের ভালো জিনিস বেশি দামেই কেনা হয়।
এই শিবু এদিকে চা দিয়ে যা। রোজ সকাল সাতটা থেকে চা দিতে থাকে শিবু। বয়েস সবে নয় বছর কিন্তু হাত পাকিয়েছে বেশ। তবুও কাঁচের গ্লাস ভাংলেই শোনে, শালা চোখে দেখতে পাওনা হাতে কি জোর নেই, দূর হয়ে যা। একটা মিছিল যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে । কিসের মিছিল ওটা ? যা দুই অক্ষর সে জানে তাতে বুঝল ” শিশু শ্রম ” বন্ধ করার মিছিল। ভয় পায় শিবু টেবিলের নিচে লুকিয়ে পরে। তাকে কি কাজ থেকে বাতিল করা হবে। মা যে আজ সাতদিন উঠতে পারে না গায়ে ধুম জ্বর। ওষুধের দোকানের কাকু বলেছে আরও সত্তর টাকা দিতে হবে।
পথে চলতে চলতে আরও কতো কি দেখা যায়। তাদের নিয়ে কাব্য হয় কবিতা হয়  কিন্তু ভালো করে সাজিয়ে দেখলেই একটা জীবন।

Share Button