হাসনাত নাগাসাকি এর একগুচ্ছ কবিতা

বৃহস্পতিবার, মে ১০, ২০১৮ ৮:২৯ অপরাহ্ণ
Share Button

রুমু, অদেখা ঈশ্বরী

চুপ থাকলে পারিনা রুমু, ক্রমশই বাষ্প হয়ে যাই।
এই ছোট্ট কুঠুরিতে এই বিশাল পাখির ডানা
আঁটসাঁট হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে উড়াল জরা! কোথা রাখি এ হৃদয় বলো, বলো হে অদেখা ঈশ্বরী?
তাকাও, তাকিয়ে থাকো- যেমন বিদীর্ণ করে
মার্কিনী মিশাইল আফগানিস্তানের বুক; শিমুলতুলার মতো উড়ে যাক ভিতরের নষ্ট আমি।
তবুও; রুমু, ওই চোখ আমাকে দাও – তাকাও, তাকিয়ে থাকো।
ওটা কি পাথর স্থির, ঠোট?
নড়ছে না কেন? দু’একটা অর্থহীন শব্দ হলেও হোক; তাচ্ছিল্যের, অবজ্ঞার, অথবা খুনসুটির।
চুপ করে থেকো না রুমু, চুপ থাকলে আর পারি না।

 

অমীমাংসিত

আজ আমি শরমিতা সড়কের পাশে
একাকী অচেনা গাছটিকে উৎসর্গ করবো
একটি বর্ণাঢ্য বিকেল।
এইসব বিকেল দেখতে অনেকটা
পোকাহীন তরতাজা আপেলের মতো।
এইসব মিথ্যে বিকেল আপনাকে প্রলুব্ধ করবে
থামিয়ে দিতে অমীমাংসিত পেণ্ডুলাম।
তারপর, আঁশ ছাড়ানো মাছের মতোন
নিশ্চল পড়ে থাকবে এইসব ঠুনকো বিকেল –
না জেনেই করুণা আর ভালবাসার মধ্যকার ভেদ।

ধরুন, আপনি প্রলুব্ধ হলেন।
বিকেলটাকে মনে হলো – পৌষগাছির
রসের খুবানি দিনের মতো হাড়ির উপুড়;
আপনি তার রৌদ্রস্নাত উষ্ণতায়
লাগাতে গেলেন গাল –
পেলেন কি টের ফনিমনসার প্রেম?
একটি বিকেল আজ উলুবনে মুক্তো ছড়াতে এলেম।।

 

পোস্টমর্টেম

তাহলে কি লাভ হলো?
ওরা বলছে তুমি মানসিক বিকারগ্রস্থ ছিলে।
রাত আর দিন
তুমি আলাদা করতে পারতে না,
এবং বলছে – ঠাঁই দাঁড়িয়ে
রাস্তায় উপচে পড়া ডাস্টবিনে গোঁজামুখ কুকুরের কলহ দেখতে তুমি!

তুমি যাকে ভালবাসতে, সে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক ।

ওরা বলছে -তুমি রাত জাগতে, এটা ষড়যন্ত্রের শামিল;
কবিতা লিখতে চালের দাম ও পতিতা নিয়ে,
এটা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল ;
তোমার নিজস্ব কোন দর্জিদোকান ছিলনা,
অথচ, তুমি ঘুড়ি উড়াতে বাচ্চাদের প্ররোচিত করতে,
বুদ্ধিজীবী আর গোয়েন্দার মতে, তুমি কর্ণেলদের গোঁফ ছেঁটে দেয়ার পায়তারা করছিলে।
ওরা বলছে, তোমার প্রিয় ছিল পাখিদের মুখ,
আর রাখালের উদাম সরল; আর,
তোমার নির্বুদ্ধিতায় তারা হাসাহাসি করছে যে
পোট্রেটে তুমি জলহীন নদী আঁকতে!
ওরা বলছে, তোমার মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত ছিল।

তাহলে কি লাভ হলো!
পোস্টমর্টেম বলছে, আত্মহত্যা!

 

 ব্যতিহার

যদি আমি লিখে যাই কিছু কিছু শব্দরূপ –
যেমন ‘মৃত্যু’; যেমন ‘ভালবাসা’;
যদি লিখে যাই ‘যক্ষ্মা’ একটি কষ্টকর জীবনের নাম –
কখনো তোমার হাতে উড়ে গিয়ে পড়লে সেই চিঠি –
কী ভাববে তুমি? কল্পনায়?
ভাববে কি অপত্য ভালবাসাহীন একটি শুশুক সন্তানের কাছে যেতে পারেনি কখনো;
পাল্টানো জলের স্রোতে সন্তানের পাখনা- কানকো খুঁজে পায়নি পিতার প্রবাল?

ধরো, আমি প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লিখলাম- ‘প্রসাদ’
নিদারুণ অভিমান নিয়ে লিখলাম- ‘ফেরারি’ ;
অস্থির উন্মাদের মতো লিখলাম- ‘প্রশান্তি’
-কোনো সায়াহ্নে বসে একাকী পাহাড়ের অন্ধকার চিবুকের কাছে গড়িয়ে পড়ার আকুতি জানালে
পাহাড়টি আমাকে বক্ষ খুলে দেবে।
আর, আমি মৃত্যুর বদলে ঝুলে থাকবো স্তনবৃন্তে তার।
যেহেতু জেনেছি পাহাড়ের যোনির ভিতরে যেই ঘুম – সেই সুধা ছেড়ে আর ফেরা হয়না।

এইভাবে ঝুলে থেকে রাত বাড়বে,
হয়তো; এই চরাচরে বাড়বে স্বাভাবিক শেয়ালের গান,
তুমি হয়তো অংশ নেবে সেই নৈশভোজে!

তখন হঠাৎ উড়ে
তোমার সমুখে পড়লে হলুদ বোতাম –
ঝুলে থাকা ছেঁড়া জামার বুকের উদাম –
কি ভাববে সেই সিল্কি সময়ে?

ভাববে কি – ‘বোতামটা লাল হলে আরো ভালো হতো’?

Share Button