হুমায়ুন আহমেদের ৬৯ তম জন্মদিন আজ

সোমবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৭ ৭:৪০ অপরাহ্ণ
Share Button

সাহিত্যপুরী ডেস্কঃ আজ ১৩ নভেম্বর জননন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাটক ও চলচিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী। আধুনিক বাংলা গল্প, কল্পবিজ্ঞান-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর হিসেবে সমাদৃত এই ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল রাত ১২টায় কেক কেটে তার জন্মদিন উদযাপন করেছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আজ ভোরে হুমায়ুন আহমেদের নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে যাত্রা এবং এতিমখানায় খাবার পরিবেশন করা হবে পারিবারিকভাবে। এ ছাড়া চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা’।
বিকাল তিনটায় পাবলিক লাইব্রেরিতে বসবে হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা ও নাটকের মঞ্চায়ন। অন্যদিকে গতকাল বাংলা একাডেমিতে প্রদান করা হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৬’। এছাড়াও সারাদেশে বহু প্রতিভার অধিকারী এই বরেণ্য লেখকপ্রিয় পাঠক ও ভক্তরা নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোনা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা তুলনারহিত। তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

পরিবারসহ হুমায়ুন আহমেদ

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে একপর্যায়ে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।

হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। এই দম্পতির তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে।

প্রথম স্ত্রী গুলকেতিনের সঙ্গে

তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। ২০০৫ সালে তিনি শাওনকে বিয়ে করেন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ২৪ জুলাই তাকে নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় দাফন করা হয়।

হুমায়ুন আহমেদ তাঁর অসংখ্য বহুমাত্রিক সৃষ্টির জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), শিশু একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক (১৯৯৪), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ (শ্রেষ্ঠ কাহিনী ও সংলাপ ১৯৯৪)
নানা পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

ছবি- আমাদের সময় থেকে সংগৃহীত, তথ্য- উইকি

Share Button