একগুচ্ছ কবিতা।। সজীব আহমেদ

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩, ২০১৯ ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
Share Button

ধোঁয়ার কাছাকাছি

ধোঁয়া ঠিক তোমার মতো
মাঠে ছেড়ে দিলে বাতাসে মিশে
গভীর অরণ্যে ছেড়ে দিলে
পাতায় পাতায় হারিয়ে যায়।

তোমার অনলখানি নিতে পারিনা ;
ভেবে দেখো রঙধনু ‘র কত গভীরে হৃদয়ের স্পন্দন!
স্পর্শে লেগে থাকো ধোঁয়ার কাছাকাছি।

পুরণো-নতুন জামায় , ইজি চেয়ারে- প্রজাপতি, খণ্ড খণ্ড মেঘের ডানায়
বুকের পাজর পোড়ে পোড়ে ধোঁয়ার আস্তরণে জড়ো হও।



সহজাত ঘুম

একটা সহজাত ঘুম। ঘুমের হরিণ- চোখ নিয়ে
দৌঁড়ে যায় ঘাসপাতা অথবা জলের দিকে।

জল তোমার অহংকার, নিরানন্দের মাদুর!

তবুও ঘোর ঘোর লজ্জার শেকড়
হিংসা, বাঘে খাবে।
অনাবিল কথায়,
ভ্রূক্ষেপে; কাদাচিৎ মাটির আক্ষেপ!

পৃথিবীর বুকের প’রে জল আর শেকড়
ভাই বোন সেজেই রয়ে গেলো।

পাখিরা না জন্মালে
অন্ধকার লেগে থাকতো ছাইয়ের শরীরে!

যন্ত্রণা ছাড়িয়ে –
গরুর সরল চোখের মায়া লেগে থাকুক গ্রামে গ্রামে।



সুরহারা পাখি

আমাদের শিশুরা দেখছে খাবার টেবিলে
নর্তকীর শোভাযাত্রা!

আকাশের রঙধনু বদলে যাচ্ছে আগুনের রঙে
মানুষ বুঝে গেছে ,
জীবনের দামের চাইতে বেড়ে গেছে জমির দাম।

এসো হাত খুলি পা খুলি – খুলে ফেলি ভেতরের চোখ
যাকে তুমি উর্বর ভেবেছো অথচ রাষ্ট্র জানে
মানুষ নামের শরীর গলিত বেবুন।

আমরা আরো কিছু দিয়েছি- ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়া বাড়ি,
চিকিৎসায় কিডনি বিতরণ, শিক্ষায় সম্পদহারা।

রাষ্ট্রের কসাই’রা জানে,
মানুষের অন্য চেহারা বিপন্ন বিস্মিত সুরহারা পাখি।



জলস্রোত

কেবল রাত নিয়ে তাড়াচ্ছে সীমান্তের দিকে
পরের রাত আসার আগেই,
ডুব দিতে হবে।
যেতে হবে দেবী ডুবানোর আগে; ডুবতে ডুবতে-
আমি কী পাড়ে উঠতে চাইব !
তুমিও ডুবে যেতে চাইবে,
পারবেনা।

গাছের শুকনো পাতারা কখনো কী ডুব দিয়ে ছিল!
বয়স হলে গায়ের চামড়া গুঁজে যায়;
চিত্র নষ্ট হয় না:
বুকে চিত্রকরের নানান আঁকিঝুঁকি, প্রেমের বদনাম
ডুবের সংগ্রাম।

ডুববো তো ঠিকই-
তোমার নানা রঙ ঘেষে, পেরিয়ে ডুবের জলস্রোত।



আঙুলের ছাপ

আমাদের পাড়ায় আছে ছোট ছোট ঘর
ঘরের ভেতর – খাবার বাটি ,
আছে ছোটখাটো ফল।

আমাদের আছে ভাল্লুকের মতো আঙুল ;
জলের বিছানা।
ঘোমট দিনের মাঝামাঝি ঝলকানি আলো
পথে বিছিয়ে থাকা আঙুলের ছাপ –
কার বাড়ি যায় – কার ঘরে রয়
ঘরের ভেতর ভিজে যাওয়া রঙিন গামছা ঝুলে রয় ।

মেঘের আষ্টেপিষ্টে পলায়িত ঈশ্বরের
কোমল দাঁড়িতে সংহতি – আশ্রয়।

Share Button

আপনার মতামত দিন