কবি বশিরুজ্জামানের একগুচ্ কবিতা

গহীনে নৈঃশব্দ্য

ভেঙে গেছে নির্মিত স্বপ্নের রঙিন প্রাসাদ

শিশিরের মতো ঝরে গেছে অপূর্ণ ইচ্ছেরা

শুঁকিয়ে গেছে হৃদয়-চরের তৃষ্ণার্ত নদী

অনাগত জীবনের ভুল হিসেব কষে কষে

বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে হাতে-বাঁধা সময়।

একদিন শ্রাবণের কালো মেঘের মতো

মনের আকাশেও জমাট বাঁধে দুখের মেঘ।

মেঘগুলো কখনো গর্জে উঠে দুঃস্বপ্নের মতো

কখনো বা নয়নশ্রু হয়ে ঝরে ফোটায় ফোটায়।

এই দুঃখ ভরা জীবনে আর বাঁধা হয়নি ঘর

কুঁড়াইনি ঝরে পড়া ইচ্ছের রঙহীন পাপড়ি

শুঁকিয়ে যাওয়া নদী আরো বেশি শুঁকিয়ে গেছে

ভুলই থেকে গেছে জীবনের ভুল হিসাবের খাতা।

কষ্টকাতর স্মৃতি বুকে আজও বেঁচে আছি

গহীনে একপৃথিবী শূন্যতা নীরবে ঘুমায়

তারও আরও গহীনে জেগে আছে নৈঃশব্দ্য

আত্মা ও সময়ের আধ্যাত্মিক সুনিপুণ খেলা।

তারপর সময়ে জীবন বিস্বাদের হয়ে এলে

ক্লান্ত ঘোড়ার মতো আঁধারে ঝিমায় সারারাত।

তুমি আসো যদি

তুমি আসো যদি সুখে সাজাবো জীবন

ভালোবাসার গোলাপে ভরাবো এই মন

নষ্ট কষ্ট জ্বেলে দেবো বিষাক্ত অনলে

দুঃখগুলো ভাসিয়ে দেবো বেনোজলে

যুগল চোখে থাকবেনা না পাওয়ার জল

হৃদয়ের উঠোনে হাসবে সুখের নিলোৎপল।

তুমি আসো যদি নদী পাবে পূর্ণ যৌবনতা

সাগর ফিরে পাবে ঢেউয়ের চঞ্চলতা

ঝাউবিথির বনে দোল খাবে হিমেল পবন

সবুজে সবুজে মিতালী হবে উদাসী বন

নিশিতে আকাশে হাসবে অগণিত তারা

চন্দ্র বিলাবে তার রূপের জোসনা ধারা।

তুমি আসো যদি আবার সাজাবো জীবন

ভালোবাসার গোলাপে ভরাবো বিষাক্ত-মন।

প্রেমের আহবান

সুখপাখিটা ফিরে আসুক প্রেমের আহবানে,

দুঃখগুলো পুড়িয়ে দেবো শোক-বিরহগানে।

জীবন-নদীর ঘাট প্রেরিয়ে কোথায় এলাম চলে!

স্মৃতির সুতোয় টান পড়েছে নয়ন ভাসে জলে।

রঙবেরঙের ইচ্ছে দিয়ে সাজিয়ে নিলাম কুলা,

কোথায় স্বপ্ন অচিন পথেই হলাম আত্মভোলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here