গোপাল বাবুর করোনা-ভাবনা।।সেবক বিশ্বাস

0
করোনা ভাইরাসের গল্প

ভোরে উঠি না এখন। সারাদিন দীর্ঘ সময় কিভাবে ঘরে বসে বসে কাটাবো? তাই বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়েই সময় কাটাই। আজ এগারোটার পরে ঘুম থেকে উঠলাম। গিন্নির ঝাড়িও খেয়েছি- “কুম্ভকর্ণ,সকালে উঠে দুটো ভাত তো রান্না করতে পারো”।
বরাবরের মতো চুপচাপ চলে যাই ওয়াশরুমে।
বের হতেই দেখি, দুটো বিস্কুট আর কাচের কাপে চা হাতে দাঁড়িয়ে।
চেয়ারে বসে চা’য়ে বিস্কুট ডুবাতে ডুবাতে বললাম- একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি আজ।
– কী স্বপ্ন? গিন্নির আগ্রহহীন প্রশ্ন।
– গোপাল বাবুর সাথে কথা হলো।
– কী! হঠাৎ ব্যাপক কৌতুহল দেখলাম তার চোখে।
টিভিতে ‘লবকুশ’ দেখতে থাকা আমার মেয়েটা একবার আমাদের দিকে তাকিয়ে আবারও আপনমনে রামকাহিনী দেখতে থাকে।


গিন্নির কৌতুহল আমাকে স্বতঃস্ফূর্ততা দিল। বললাম, তোমরা মা-মেয়ে ঘুমিয়ে ছিলে। হঠাৎ দরজায় নক। খুলবো কি খুলবো না, ভাবছি। এমন সময় কেমন একটা চেনা গলার স্বর,
– মাস্টার বাবু আছেন নাকি?
উঠে দরজা খুললাম।
– আপনি! কী সৌভাগ্য! আসুন। আসুন।
– না। না। ভেতরে আসবো না। ভেতরে আসাটা সমীচীনও হবে না।
– দরজায় দাঁড়িয়েই কথা বলবেন?
– হ্যাঁ। আপনারা সবাই সুস্থ আছেন তো?
– হ্যাঁ। এখন পর্যন্ত সুস্থই আছি। তবে বড় দুশ্চিন্তায় আছি। কে,কখন অসুস্থ হয়ে পড়ি।
– একটুও দুশ্চিন্তা করবেন না। দুশ্চিন্তা করলে প্রতিরোধ শক্তিও হারিয়ে ফেলবেন। এখন দরকার বেশি বেশি মনোবল।
– সে তো বুঝি।
– যে কথা বলতে এসেছিলুম,তাই বলি।
– নিশ্চয়ই।
– আচ্ছা,করোনা ভাইরাস তো সাবানজলে মরে যাচ্ছে,তাই না?
– হ্যাঁ,তাই তো সবাই ঘনঘন সাবানে হাত ধুচ্ছে।
– তাহলে বিজ্ঞানীরা সাবানজাত দ্রব্য দিয়ে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে না কেন?
– তা তো জানি না।
– সাবানের ঘষায় যদি করোনা মরে যায়,তাহলে সাবানের সিরাপ বা ভ্যাকসিন জাতীয় কিছু বানালেই তো হয়।
– মাথায় আমার কিছু ঢুকছে না,গোপাল বাবু।
– এই যে দেখছেন আমার দুই হাতে দুটো এক লিটারের বোতল।
– হ্যাঁ,দেখছি। কী ওগুলোতে?
– একটায় সাদা জল আর একটায় সাবানগোলা জল।
– কী হবে ও দিয়ে?
– করোনা ভাইরাস নাকি প্রথমে গলাতেই আক্রমণ করে।
তাই মাঝেমধ্যে সাবানজল দিয়ে গার্গেল করছি।
– কেন?
– যাতে গলায় ঘুপটি মেরে বসে থাকলেও ভাইরাসটি সাবানজলে মরে যায়।
– তাই! দারুণ তো! তা অন্য জলের বোতলটা দিয়ে কী করছেন?
– খানিকক্ষণ গার্গেল করার পর সাদা জলে মুখটা আবার ধুয়ে ফেলছি।
– যদি সাবানজল পেটে চলে যায়?
– বেশি পরিমাণ পেটে চলে গেলে গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করে ফেললেই হলো।
– এতো বড় ঝামেলার ব্যাপার দেখছি।
– মাস্টার বাবু,করোনার মতো মরণব্যাধি রুখতে সামান্য গার্গেল কি খুব বেশি ঝামেলার?
– তা অবশ্য না।
– তাহলে এখনই এক বোতল সাবানজল বানিয়ে ফেলুন।
– আচ্ছা,ঠিক আছে,গোপাল বাবু। কথাটা বলতেই ঘুমটা ভেঙে গেল।
গিন্নি হতভম্ব হয়ে জানতে চাইলো,
– গোপাল বাবুটা কে?
– স্মিত হেসে বললাম,রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সেই নবরত্ন- গোপাল ভাঁড়!

Hits: 0