দুটি কবিতা।। মাহবুবা স্মৃতি

অকথ্য কিছু শব্দ

এইযে তুমি

হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি

গহীনে কান পাতো

কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছো কি?

যদি ভেবে থাকো সামান্য

– ভুল।

এই শব্দে রয়েছে গাঢ় নীলরং,তাজা কিছু রক্তকবরী

কিছু অভিশপ্ত গানে মূর্ছা যাওয়ার মতোই করুণ সুর,

আছে অতৃপ্ত আত্মায় জমে থাকা ভালোবাসার খোরাক,

আছে দীর্ঘ কিছু চাপা নিঃশ্বাস।

আরো আছে সমুদ্রের মতোই বিশাল স্রোত…

শুনো শুনো, আরো আছে নোনাজলের হুংকার, অলব্ধ কিছু ব্যর্থ ছবি

আরও আছে সাজানো কিছু স্বপ্নের ভাঙন,

ক্ষুধার্ত পেটের হাহাকার

অশ্রুহীন কাব্যের প্রলাপ, ঘৃণীত অভিসম্পাত!

শুকনো বালুচর, আবার-

রাধার মতোই স্রোতস্বিনীর ছুটে চলা,

আছে রোমিও- জুলিয়েট এর মতোই কিছু প্রেমের গীত,

আছে মূর্ছনা-তীব্র চিৎকার

শৃঙ্গায় ফুঁ দেয়ার মতোন কাঁপন অনবরত ঝরে পড়ে;

আরো…আরো….অনেককিছু।

এখানে শুধু গহীনে শব্দ আর শব্দ…

ভাষাহীন, অকথ্য

কিছু মৃত্যুর জেগে থাকা চিৎকার,

যা গভীরে ডুবলেই পরে বুঝা যায়!!

বৈরী শ্বাস

একটু জায়গা চেয়েছিলাম, দিলিনা

বরং অপমানের দ্বার দিয়ে

ফিরিয়ে দিলি!

জানিস? কেমন লেগেছে!

তোর মনের করিডোরে যতোটা ঘৃণা জমা আছে, তারচেয়েও করুণ!

একটা স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলাম তোর সাথে,

ঘুমের ঘোরেই বিরক্ত হয়ে তাড়িয়ে দিলি,

আমার স্বপ্নেরা এখন সর্প ছোবলে পালায়,

যেভাবে তোর দুঃস্বপ্নের কপাত নড়ে!

আমি তোর মতো করেই ভালোবাসতে চেয়েছিলাম তোকে,

তুই তোর মতো করেই ফিরিয়ে দিলি শূন্য হাতে,

অনেকটা পাষাণহৃদয়ের উপহাস ঢেলে;

আমার কাছে ভালোবাসাটা এখন

মৃত্যুর আর্তনাদের মতো!

একটা মনই তো চেয়েছিলাম,

বিনিময়ে দিলি লাঞ্চনার লাগামছাড়া বাক্যসংলাপ!

যার পরতে পরতে ছিল অভিশম্পাত!

আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, তোর মতো বাস্তবতার হাত ধরে;

বিনিময়ে উপহার দিলি কার্বন-এসিডের মতো যতো বৈরী আমেজ!

আমি নির্বাক!

আমি আবারো তোর মতো করে জীবনকে চিনতে চেয়েছিলাম,

তুই জীবনের বিপরীত সংজ্ঞায় আমাকে রেখে চলে গেলি!

আমি নিথর হয়ে অনেককাল পড়ে রইলাম!

এবার আমি বিশুদ্ধ বাতাসের খোঁজে পথে নামলাম;

সেখানেও কার্বনচক্রে বিষাক্ত করলি অক্সিজেন!

এখন আমি আর আমার মতো করেও বাঁচতে পারিনা!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here