সোনালী সাহার দুটি কবিতা

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৫, ২০১৭ ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
Share Button

পিছুটান

চলে যাই চলে যাবো করে করে চলেই তো গেছো অনেকটা পথ….
সেই মেঠো পথ , রাঙামাটি ধুলো , রূপালী সুতো নদী পার করেছ অনেকদিন ।
কোপাই এর জলে পা ডুবিয়ে নাম ধরে ডেকেছিলে তাও বছর দশেক আগে
ছবিগুলো তো এখনও ঘরের দেওয়ালে অপরিবর্তিত
সেই টানা দড়িতে এখনো অপেক্ষারত সময়।
সম্মুখে আলো, এগিয়ে যেতে হবে তাই ,
পিছুটান যাবতীয়
ছুঁড়ে ফেলো ছিঁড়ে ফেলো,
সিঁড়ি করো পার ওপরে ওঠার ।
উঠেছ
তবুও তো ভোর হয়
নিচে পড়ে থাকা ঘাস ফুল আলো পায়
সূর্য উঠলে ঘামটুকু মুছে নিতে আঁচলের খোঁজ হয় আধুলি রাঙা টিপে সূর্যাস্ত আঁকা হয়
আঁধার নামলে,
আলোর সম্মুখে অগ্রসর হলে,
চরণধুলার সাথে পিছে লেগে থাকে যে ছায়া
ফিরে দেখেছ কি তাকে ?
চিনেছ কি ?
আলোর পথে গেলেও যে তোমার সাথেই থাকে পায়ে পায়ে লেগে
সে তোমার পিছুটান নয়…..!!

 

কামরার ভেতরে ও বাইরে

হাজার শ্রাবণ পেরিয়ে যায় কামরার বাইরে
ব্যাকফুটে গাছেদের ছুটে চলা ট্রেন জার্নিটা মনে করিয়ে দেয়
শ্রাবণ চলে গেল তবু ভেজা হলোনা ।
দশ ফুট বাই দশ ফুট স্বাধীনতায় স্থূলকায় পরিমণ্ডলে, আঁকা হয়নি ছবি, গাওয়া হয়নি গান নেওয়া হয়নি সোঁদা মাটির ঘ্রাণ।
বয়স পেরিয়ে যাওয়া ঝুটো প্রয়াস গিঁট বাঁধতেই থাকে জীবনের নারায়, তবু মঞ্চে ওঠা হয় না কোনদিন প্রবল বাতুলতায ….
ভেতর ঘরে লেগে যায় হুটোপুটি
পেছনে পরে থাকে কিছু বর্ণহীন স্বপ্ন একটা তুলসী মঞ্চ আর গীতবিতান ।
ধুলো ঝেড়ে টেনে নেওয়া তানপুরার তার বিদ্রোহ করে তাল ছেঁড়া যন্ত্রণায় ।
বাইরে অঝোর ধারায় শ্রাবণ ঝরে
আর ভেতরে এক আঁজলা জলে আশা পুরিয়ে গাইতে থাকি …..
“এমন দিনে তারে বলা যায় , এমন ঘনঘোর বরিষায় ”
আর যে সময় নাই …
সিদ্ধান্ত গুলো স্ফীত হয়ে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলে পোশাক
চার দেয়ালে বন্দী থাকা বিরহীনী জীবন
এই শ্রাবণে ভিজবে বলে তৈরী থাকে।

Share Button