Kobita
কবি গীতা রায়ের সেরা ভালোবাসার পঞ্চ কবিতা। জীবনযুদ্ধে ভালোবাসায় প্রাপ্তি, মান-অভিমান, বিচ্ছেদ ও  বিরহ-ব্যাথার অনবদ্য প্রকাশ। আত্মমন্থন আগ্নেয়গিরির মত - একবুক জ্বালা নিয়ে নিঃশেষ হবো, তবু্ও তোমাকে ভালবাসবোই। সাইবেরিয়ার মত তুষারপাতে এ অবনি জমাট বাঁধলেও এ ভালোবাসা আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হবেই। মরু সাহারার কঠিন রোষানলে - সুন্দর ধরণি ছিন্নভিন্ন, দীর্ণ, কীর্ণ হলেও তোমাকে ভালবাসবোই। সোমালিয়ার মতো হাহাকারে সারা ব্রহ্মাণ্ড ছেয়ে গেলেও ভালোবাসি, ভালোবাসি - তোমাকে...
কবি সজিব আহমেদের জীবনমুখী সিরিজ কবিতা আত্মজীবনী। আমরা এটি ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে প্রকাশ করছি। এক. চোখের আঙ্গিনায় সূর্যমুখী ফুল উড়ে আসে ঝাঁকবাঁধা হলুদ। দুই. কুয়াশায় স্যাঁতসেঁতে জ্যোৎস্নায় কে ভাবে? ফণা তোলে নাচে মুদ্রার মতো। তিন. ঘর ভেঙে বাইরে কেবলই আপন সরলে বিশ্বাস কাঁদে! চার. ক্ষমতাসীন ফুল চাষ করতে না পেরে অস্ত্রের সাঁনে ; রাষ্ট্রের জনগণকে পিছমোরা করে রাখে। প্রতিটি...
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমাদের বিশেষ আয়োজন বিজয় দিবসের কবিতাবলী আমি বিজয় দেখিনি ।। শাওন মাহমুদ আমি বিজয় দেখিনি শুধু দেখেছি বিজেতার উল্লাস, যে উল্লাসে মিশে আছে একাত্তরের হাহাকার, বীর শহীদের লাশ! যে উল্লাসে মিশে আছে অজস্র বোনের বিনম্র চিৎকার, মায়েদের দীর্ঘশ্বাস। আমি বিজয় দেখিনি.... হত্যা।। সজীব আহমেদ রক্তধারার স্রোত বয়ে চলছে সমূদ্রের দিকে মাথা ফেটে- গলা কেটে- বোমা...
কবি এ কে রাসেলের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দুটি কবিতা। স্বাধীনতার প্রত্যাবর্তন অতঃপর... তুমি এসেছো হৃদয়ের দগদগে ক্ষত ছুঁয়ে দিয়ে, লাশের স্তুপে পা রেখে দৃপ্ত পদচ্ছাপে তুমি এসেছো গোলাপের পাপড়ি শুকানো বেলায়... তুমি এসেছো অশ্রু মুছে দিতে বীরাঙ্গনার উদোম দেহ ঢেকে দিতে, কৃষাণের মাঠে সবুজের সমারোহে। তুমি এসেছো উচ্ছল কিশোরীর নূপুরের ছন্দে রাখালের বাঁশির সুরে সুরে নবজাতকের কোমল হাসি...
সিঁদুর নয় রক্ত।। সঞ্জয় বিশ্বাস  সত্য যুগের আগে কোনো পূর্বপুরুষ বেলপাতায় আশ্বিনের  মেঘ আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেলেছিলো তোমার কপাল। -সেই কপালের সিঁথি বেয়ে অনন্তকাল হেঁটে হেঁটে আমি জেনে গেছি,  সিঁদুরের নাম করে তুমি পরে আছো রক্ত, জেনে গেছি,  অপবিত্র রক্ত পরেই মহাপবিত্র হয়ে আছো তুমি। নিরুত্তর।। আলেয়া দেবী মন উঠোনে হঠাৎ বৃষ্টি নামে,,,, চোখের কোণে...
ধোঁয়ার কাছাকাছি ধোঁয়া ঠিক তোমার মতো মাঠে ছেড়ে দিলে বাতাসে মিশে গভীর অরণ্যে ছেড়ে দিলে পাতায় পাতায় হারিয়ে যায়। তোমার অনলখানি নিতে পারিনা ; ভেবে দেখো রঙধনু 'র কত গভীরে হৃদয়ের স্পন্দন! স্পর্শে লেগে থাকো ধোঁয়ার কাছাকাছি। পুরণো-নতুন জামায় , ইজি চেয়ারে- প্রজাপতি, খণ্ড খণ্ড মেঘের ডানায় বুকের পাজর পোড়ে পোড়ে ধোঁয়ার আস্তরণে জড়ো হও। সহজাত ঘুম একটা সহজাত ঘুম।...
 নির্লক্ষ্য মুক্তি কী এক ব্যর্থ স্বাক্ষর শেষে খুলে যায় প্রথাগত জানালা! ঝুলে থাকা করুণ চুলে নৈঃশব্দ্যের প্রতিরূপে আঁকা ক্লান্ত অধ্যাস ঢলে পড়ে তীব্র উদাসিতায়। তবু গলিত চোখ প্রহেলিকার বাইরে খোঁজে সত্যের অভিজ্ঞান। নিচে অনাবৃত রাস্তায় খসে পড়া আঙুলের ছায়ায় কেমন নিশ্চুপ নড়াচড়া! ভেতরে অস্ফুট বাষ্প বিশ্বাসী বাতাসের সাথে মিশে যায় প্রার্থনার মতো! আলোহীন আকাশের...
বহুদূর সেদিনের সন্ধ্যায় হাঁটু ভেঙ্গে বসেছিলে আমার পাশে, অনেকের মাঝে আমি তোমাকে অনুভব করতে চেয়েছি তুমি পালিয়েছো, রাতের খেলায় খুঁজে পাচ্ছিনা কোথাও প্রকৃতি আজ সেজেছে নতুন রঙ্গে নব উত্তেজনা মেঘের সমুদ্রে সাঁতরাচ্ছে নতুন রঙে নতুন ঢঙে আর তুমি পালিয়েই বেড়াচ্ছো ! রাত্রি থেকে ভোর, তোমার ডালা পূর্ণ করে কুয়াশাকে ভেদ করে নতুন সূর্য উদয় হলো দাও আলো, নাও দুহাত বাড়িয়ে বুকে টেনে যুগের...
অকথ্য কিছু শব্দ এইযে তুমি হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি গহীনে কান পাতো কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছো কি? যদি ভেবে থাকো সামান্য - ভুল। এই শব্দে রয়েছে গাঢ় নীলরং,তাজা কিছু রক্তকবরী কিছু অভিশপ্ত গানে মূর্ছা যাওয়ার মতোই করুণ সুর, আছে অতৃপ্ত আত্মায় জমে থাকা ভালোবাসার খোরাক, আছে দীর্ঘ কিছু চাপা নিঃশ্বাস। আরো আছে সমুদ্রের মতোই বিশাল স্রোত... শুনো শুনো, আরো আছে নোনাজলের হুংকার,...
নিদানকালে একদিন জাহাজে উঠে সমুদ্রে চলে যাবো খুব গভীর, ভারী জলস্রোতে ধাক্কা খেতে খেতে শিখে নেবো অশ্রুর বিবিধ অনুবাদ; দেয়ানসির নাড়ানাড়িতে আম ঝরে যাবে পুরনো টিনের চালে, ভেঙে যাবে ঘুমের কাঠের পালংক কলহপ্রিয় গেন্দাফুলের গাছটি... প্রেয়সীর প্রসব বেদনার দিনে আমার আর ফেরা হবে না   পোড়ামন উনুনে যখন ভাত ফুটাবে তরকারী চা- রাঁধবে ননদীর ঢঙ- মশকরার বেআবরু কথালাপে তুমি হাসলে, আগুনের ঝিলকেয়্ দেখো — দেখবে আমার মুখাবয়ব; কান্নার রোলে...
  প্রতিদিনকার মলিনতায়   শক্ত মুঠোয় কে যেন অন্তরটাকে নিংড়ে নিচ্ছে। অনুভবের বিষপাত্রে ঝলসানো ভাবনা ক্রমেই পুড়িয়ে মারছে একটা স্বপ্নকে। স্বপ্নটা ঘুমাতুর চোখের কম্পনে আসে না- ক্লান্ত হৃৎপিণ্ডের গুহায় নিতান্তই চোরের মত ভীতু বিহ্বল হয়ে ঢোকে। মেঘের মত হামাগুড়ি দিয়ে চলে- রং বদলায়, কখনো ধূসর মলিনতায় লুটিয়ে পরে জীবনের কপট পায়ে। প্রতিদিনকার মলিনতা যেন বিশুদ্ধ একটা স্বপ্নের জন্ম দেয়; সমস্ত অন্তরকে অধিকার করে বসে...
  ঢেউভাঙা প্রবল বাসনা একটা লাজুক বিকেলের ঘোমটা টেনে আমি বহুবার দেখেছি........ কিভাবে জেগে ওঠে একটা তৃষ্ণার্ত নদীর ঢেউভাঙা প্রবল বাসনা। অনেক বিকেল গড়িয়ে যাওয়া অচৈতন্য ঋষিভালবাসা বুকে ক'রে পার হয়ে গেছি কত বিরান সমুদ্র। ভালবাসা ছোঁবে ব'লে আঁছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো থমকে দাঁড়িয়েছে আমার পৃথিবী একদিন এক দ্রাঘিমাংশ সীমানা। মৌনতার সিঁড়ি ভাংতে গিয়ে কতবার টুকরো...
 নীল কুয়াশা ১ একটা স্বপ্ন দেখে ছবি আঁকি মনের রঙ মিশিয়ে হৃদ গহীনে আদরের জল মিশিয়ে আদর খুঁজি তারার বুকে জ্যোৎস্নাজলে একটা রাজ্যগড়ি কাব্যপাতায় মধুরলতায়। ধীরেধীরে বুকের ভেতর ছন্দ বানাই। কৃষাণপুড়ে হিমেল রাতে আগুন পোহাই। নীল কুয়াশায় মন উড়িয়ে বাতাস হয়ে এই পরানে নাও তুমি আজ প্রাণ জড়িয়ে। ২. কুয়াশাতে দিয়ে ডুব, কন্যা তুমি কেন চুপ। নিরভিমান চোখের কূপ, যেন চাঁদের জ্যোৎস্না...
কবিতা পুরাণ খুব সকালে যখন পাটখেতের পথে প্রেম আসে শিশিরের চেহারা নিয়ে আমার চোখে তুমি সেইচেহারা উদাসী হই খোয়াব দেখি সবুজের বুকে তুমি প্রজাপতি হয়ে হেসে ওঠো চোখের উঠোনে ভরদুপুরে যখন আমগাছে আধাপাকা আম দেখি সবুজের কার্নিশে বৈশাখী হাওয়ায় তুমি সেই লোভনীয় হলুদ-সবুজ টকমিষ্টি আম যা কী-না বৃষ্টিভেজা রোদের মতো দুচোখে আটকে আছে পড়ন্ত বিকেলে যখন কামরাঙা গাছে একঝাঁক টিয়েপাখির টিয়ে রং লাল...
কবিতা পুরাণ খুব সকালে যখন পাটখেতের পথে প্রেম আসে শিশিরের চেহারা নিয়ে আমার চোখে তুমি সেইচেহারা উদাসী হই খোয়াব দেখি সবুজের বুকে তুমি প্রজাপতি হয়ে হেসে ওঠো চোখের উঠোনে ভরদুপুরে যখন আমগাছে আধাপাকা আম দেখি সবুজের কার্নিশে বৈশাখী হাওয়ায় তুমি সেই লোভনীয় হলুদ-সবুজ টকমিষ্টি আম যা কী-না বৃষ্টিভেজা রোদের মতো দুচোখে আটকে আছে পড়ন্ত বিকেলে যখন কামরাঙা গাছে একঝাঁক টিয়েপাখির টিয়ে রং লাল...
অধিকার যেন লুটের কম্বল! এমনই এক সভ্যতার পেট গিলে গিলে খায় আশার সমস্ত কচুরিপানা, জীবনের মুক্ত স্রোত-কচু পাতার জল যেন ক্ষণিক হাওয়ার ছোঁয়া লেগেই পতনের শেষ ধাপ। তবুও ভেঁজা জল পাট্টির আলতো ছাপচিত্র নক্ষত্রের গায়ে ক্ষত চিহ্নরূপে এঁটে থাকে। বাসী ফুলের মরা গন্ধে ঘুরপাক খায় নিশিন্দা বেশ্যাবাড়ির বরযাত্রী। চাঁদের পোড়া দাগ ছুঁয়ে শপথ নেয়- মাধুকরী শুঁয়োপোকা। নিয়তির করালগ্রাসে আবদ্ধতায় জাবর কাটে জীবনের...
অন্তরীক্ষ তুমি তোমার হৃদয়ে স্বচ্ছ জোতিষ্কালোকে আমি আতশিকাচের মূর্তি, তোমার হৃদয়ে ঝাঁঝালো রবিকিরণে আমার রৌদ্রসেবনের ফুর্তি। তোমার হৃদয়ে শুক্লপক্ষের কোজাগরী দোদুল্যমান সরণ পূর্ণিমা, তোমার হৃদয়ে অন্ধতমিস্র প্রকোষ্ঠের আমি নিষ্প্রভ রাত্রিনামা! তোমার হৃদয়ে ক্ষিতিরুহ পল্লবধারার আমি নীরব সঞ্জাতমঞ্জরি, তোমার হৃদয়ে বনমল্লিকা সরোজিনী ক্রিসেনথিমাম কবিরানী! তোমার হৃদয়ে আমি চন্দ্রকরোদ্ভাসিত বাতান্দোলিত পূর্বাভাস, তোমার হৃদয়ে হিমবাহের জগদ্বলিত উষ্ণতা জড়ানো দীর্ঘশ্বাস! তোমার হৃদয়ে শৈলশিখর উপলখন্ড ছুঁয়ে আমি প্রবালপ্রাচীর, তোমার হৃদয়ে আমি মৃগতৃষ্ণিকা হয়ে সমতলক্ষেত্রের...
রুমু, অদেখা ঈশ্বরী চুপ থাকলে পারিনা রুমু, ক্রমশই বাষ্প হয়ে যাই। এই ছোট্ট কুঠুরিতে এই বিশাল পাখির ডানা আঁটসাঁট হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে উড়াল জরা! কোথা রাখি এ হৃদয় বলো, বলো হে অদেখা ঈশ্বরী? তাকাও, তাকিয়ে থাকো- যেমন বিদীর্ণ করে মার্কিনী মিশাইল আফগানিস্তানের বুক; শিমুলতুলার মতো উড়ে যাক ভিতরের নষ্ট আমি। তবুও; রুমু, ওই চোখ...
পথের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমার থরথর প্রেম - দূর্বাঘাসের মতন কলকলিয়ে বেড়ে উঠে আজ দিনের পর দিন- রাতের পর রাত অনবরত! দুর্মরতা পায় আদিগন্ত হতে বেমালুম মহাকাশ শূন্যতায়- আমি তখন ডোবার পঁচা কাদায় বুদবুদ বায়বীয় গ্যাস হয়ে স্টিলের ডেকচিতে ভরে, এক টাকার সাদা বেলুন হয়ে উড়ি! এখানে ওখানে - খুঁজে মরি; মহাসাগরের উত্তাল ঊর্মির স্রোতে, নীল আর্মস্ট্রং এর রকেট যানের...
ব্যর্থতা ছোট্ট কিছু সমস্যা নিয়ে তোলপাড় করেছ, গ্রহ -গ্রহান্তরে পৌঁছে গেছে অদ্ভুত এই তোলপাড় ; আমি কথা বলতে পারিনা - এ আর নতুন কি ? আমি শব্দের ভেতর কথা বলতে পারিনা - সব শব্দ আমাকে মগ্ন করে, বৃষ্টির শব্দ , বাতাসের শব্দ এমনকি ঝরাপাতার শব্দও । আমি আলোয় কথা বলতে পারি না - আলো আমাকে দৃষ্টিমগ্নতায় বিভোর...
আমার দুহাতের অাঙুল গলে ঝুরঝুর করে মাটি ঝরে পড়ে আমার মৃত প্রেমের ওপর আমার চোখ হয়ে গেছে রক্ত জমে পাথর, আমার বুক হয়ে গেছে কষ্ট জমে কবর। মেঘে মেঘে ব্যথাতুর আগুন লেগে ক্ষুধার চোখে রক্ত ঝরে; বাউলা ক্ষুধার অরণ্য পটপট করে ঈশ্বরের আগুনে পোড়ে কেঁদে ওঠে ক্ষুধার শিশু আমি শুনি কুকুরের কান্না, কাকের চিৎকার হাঁ করা...
তোমার হাতধরে হাঁটা পৃথিবীতে তুমি নির্লিপ্ত শূন্যতা, কেবল অস্পষ্ট আভায় নিঃশব্দ তুলিতে তুমি অনুভব আঁকো। প্রাণের প্রত্যেক পৃষ্ঠায় তোমার আশ্চর্য অক্ষর আমার পাণ্ডুলিপি লেখে, বুকের ফল্গুধারায় তোমার কতকালের সনাতনী স্রোত! ক্রমাগত ছায়াপথে তুমি এক আলোর ইতিহাস। ছবির দেশে তুমি ছবি- তবু যে শ্বাস মিশে যায় মৃত্যুর মধ্যস্থতায়, তার জন্মটুকু তুমি!
গহীনে নৈঃশব্দ্য ভেঙে গেছে নির্মিত স্বপ্নের রঙিন প্রাসাদ শিশিরের মতো ঝরে গেছে অপূর্ণ ইচ্ছেরা শুঁকিয়ে গেছে হৃদয়-চরের তৃষ্ণার্ত নদী অনাগত জীবনের ভুল হিসেব কষে কষে বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে হাতে-বাঁধা সময়। একদিন শ্রাবণের কালো মেঘের মতো মনের আকাশেও জমাট বাঁধে দুখের মেঘ। মেঘগুলো কখনো গর্জে উঠে দুঃস্বপ্নের মতো কখনো বা নয়নশ্রু হয়ে ঝরে ফোটায় ফোটায়। এই দুঃখ ভরা...
তুমি কবে ফিরবে ? সেই কবে ছুটি নিয়ে চলে গেলে আর ফিরলে না ! সম্বলহীন হৃদয়ে তুমি তো অবলম্বন। আমার হৃদয়ের দস্তাবেজ গুলো তো সব তোমার নামে, তোমায় তো দেখতে চেয়েছিলাম চূড়ার শীর্ষে। তবে ততটা র্শীষে নয়, যেখানে তুমি অদৃশ্য হয়ে যাবে। তবে তুমি একি করলে! যে চূড়ায় আমার দর্শনেদ্রিয় দৃষ্টি পৌছাতে অক্ষম তুমি সেখানেই চলে...
এক হাসিতে আকাশ দেখি সেই হাসিতে অন্ধকার ভোরের আলো দেখার পরও অরণ্যকের মন বেজার। যে রঙেতে মন রাঙাব সেই সবুজে হালকা রঙ দিনদুপুরে অবাক আমি কেমনতর মনের ঢঙ। আকাশ পানে চেয়ে দেখি সব তারাদের আড্ডা আজ বুঝিনাকো বুঝি না আর মানব মনের এমন সাজ।
মৃত্যুর ভয়াল উপত্যাকা আমার দেশ বাহুতে এল এম জি নিয়ে ঘুরছি বন-বনান্তে, গতকাল মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে বুলেট বেঁছে আছি এটাই বিস্ময় । যখন ফিরে আসি আপন ঢেরায় ক্লান্ত, অবিশ্রান্ত দেহটি কেবল মৃত্যু খুঁজে সঙ্গীরা আজ অনেকই গেছে ঝরে ১৮ বছর বয়সে সাতাশ টা খুন করেছি সন্তাপ, অভিশাপ, মানবতা খুঁয়ে গেছে। পাশে সহযোগীরা গোল হয়ে "চরম পত্র" শুনছে আমি...
বিজয়ের হৃৎ-স্পন্দন। বিজয় দিবসের  একটি  বিশেষ সংখ্যা। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস নিয়ে অসাধারণ কিছু কবিতা রয়েছে। স্মৃতি-৭১।। সেবক বিশ্বাস একাত্তর! তুমি ফিরে আসো বারবার বিজয়ের স্মৃতি নিয়ে, স্মৃতি নিয়ে রক্তের, সংগ্রামের,স্বাধীনতার। আমি যুদ্ধ দেখিনি একাত্তর, মায়ের কাছে শুনেছি তোমার গল্প- ওরা নাকি পাখির মতো মেরেছে মানুষ লাখে লাখে, খড়ের মতো জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘর। বাংলা দেখেছে পাক-পশুতা বনের পশুর চেয়ে। একাত্তর! তুমি এলে...
আলোর সাথে বোঝাপড়া গেছে চুকে গভীর অন্ধকার জীবন ধুঁকে মরা,পাঁজর ক্ষতবিক্ষত। একফোঁটা সুখের পানি আসমানী রূপকথা। ছিবড়ে হওয়া মানবতা---উত্সর্গীত অনুভব। শাসন চলছে অরাজকতা ধুচ্ছে মুখ, পুরু কোটিং শ্মশানের জলন্ত ছাই। ইসস্ চুপ বড় উজ্জল বাঙ্গলার মুখ। মান ,জ্ঞান ,ধর্ম ,সমাজ সবই লিখিত পোস্টার,নির্বাক শিক্ষার পরিহাস। ভোগ লোভ আসল কথা,নারকীয় সহবাস! ভোগের প্রসাদ ,উন্মাদ প্রতিফল। ফাগুন রাঙ্গানো স্মৃতির সমীরণে চোখের পাতায় বীভৎস নীল...
তোর জন্যে আমি পদ্মের গোলাপী নিঃশ্বাস হতে পারি, বুকের ক্ষততেও হলুদ চন্দনের প্রলেপ হবো... যদি তুই আমার একলা নদীকে স্রোতসাগরে ফিরিয়ে দিস। কৃষ্ণচূড়ার বনে নির্দ্বিধায় প্রেমের আগুন নেভাবো, আমায় যদি না চিনিস বৃষ্টির আবাল্য ছাটে। কথাকলি মন আমার,তোর চোখের শাওনে মুখরা... কতো না রাত জড়িয়েছি তোকে স্বপ্নের রাজ্যপাটে। চাঁদ ডোবা ভোরে আমি কাঁদছি কেনো? শিশিরের স্নানে বিরহী...
চোরাবালির মধ্যে আমার রক্তমাখা শরীর ডুবিয়ে দেই, সে কেবল আমার শরীরে লেগে থাকা রক্তই শুষে নেয়! আমি হতাশ হই না, আবার হিংস্র রুপ ধারণ করে নেকড়ে সাজি; কোনো নিঃস্ব বিবশ কাউকে পেলেই তার বুক চিরে রক্ত মাখি! সেই নিশ্পাপ রক্তে আমার শরীরে লাভার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আমি প্রাণপনে ছুটতে থাকি, বিবেকের জ্বালা আমায় তাড়িত...
এমন হাসফাঁস লাগছে কেন ? আমাকে কি স্বাধীন ঘোষনা করা হয়েছে? নাকি কফিনে? একজনের নিঃশ্বাসের শব্দে আমি আঁতকে উঠলাম। কফিনে এখন ক'জন আমরা? আমি ঘন অন্ধকারে চোখ খুলতে ভয় পাচ্ছি কানে ঘোর নৈঃশব্দের হাওয়া। তীব্র আতংকে অশান্ত হবার মুহুর্তে কেও একজন, কেও একজন আমাকে ছুঁয়ে দিল। বললো, আজ আমাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। বিচ্ছিন্ন সব নাম নিয়ে ভালোবাসাহীনতা যাকে তাড়া করে। সংবিধান...
বেঁধেছিলাম প্রেমের নীড় দুজনে নীরবে, ধর্মান্ধতার আগুন পুরিয়ে দিলে সে নীড়। নির্যাতনে ওদের মন ভরে নি, ঠেলে দিলো শ্মশান-কবরে। তোমার চিতার আগুনে পুড়ে গেছে এ হৃদয়, এ দেহ; তোমার অস্থি বিসর্জন হলো জলে। দেখো, মিশে গেছে তোমার অস্থি আমার গোসলের পানিতে। পারে নি ওরা, পারবে না থামাতে মিলন আমাদের, আমাদের প্রেমের কবরে যে প্রবেশ নিষেধ ওদের। কাব্যগ্রন্থ- এক ফালি রোদ  
ওরা হেঁটে চলে ধেনুর পিছনে খুরের ধূলি মেখে , ওরা শ্বাস লয় খোলা মাঠের শুদ্ধ বাতাস হতে । ওরা পেড়ে খায় কালো পাকা জাম খালের ধারের গাছে , ওরা পেড়ে খায় কচি কচি আম মরিচ লবণ যোগে । সারাদিন ধরে মাঠের বাতাসে ডাঙ্গ গুলি খেলে , মধ্যে মধ্যে সেইগুলি ফেলে মার্বেল লয়ে খেলে । ওই যে দেখো দীঘির জলে সাঁতরে সাঁতরে খেলে...
জীবনের সাঁকো ভাঙা স্মৃতি নিয়ে ফিরে এলাম খুব কি দেরী হয়েছে ? সময় কি ছুঁয়েছে আকাশ ? সোনা গুড়ো রোদ চেলাই কাঠের নিচে বড় উজ্জ্বল মেঘেরা বিছায় আলো পড়ে থাকা শূন্য বিছানায় । সকালের রৌদ্দুর অস্ফুষ্ট উষ্ণতায় চুমু খেয়ে যায় কপালে আলো-ছায়া, মেঘরৌদ্দুর, ঘাসের গন্ধ সবই যে আগের মতই আছে, নিজেকে নিহিত রেখেছিলাম বর্ষার কাদাজলে- বাতাস...
অগ্নিবলয়ের মধ্যে ভূমিষ্ঠ হওয়া সদ্যোজাত শিশু, পৃথিবীর ছাড়পত্র পায়নি সে, রাখা হয়নি নাম, হবেও না কোনদিন। কালের বিবর্তনে ইতিহাসের বিবর্ণ পাতায় হবেনা মলিন, প্রিয় জন্মভূমি রাখাইন। পরমানন্দে বিছানায় ঘুমিয়ে আছে শিশুটি, ঘুমের মধ্যে ভাবছে হয়তো, এ বসুন্ধরা তার জন্যে নিরাপদ নয়! ভাবছে বড় হতে পারবো তো? মাকে ‘মা’ এবং বাবাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারবো? ঘনকালো মেঘে ঢাকা আকাশ।...
হঠাৎ করে কে যেন ডাকলো আমায়, ঘুমন্ত শরীর শিহরিত । ডায়েরির পাতাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেল, পড়ে রইলো চারিদিকে ছড়িয়ে - শেষ ঠিকানার টুকরোখানি। অস্পষ্ট চোখে ভেসে আসে, সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা - মানুষের হাহাকারের কন্ঠ ধ্বনি । কখনো বা ছুটে চলে যায়, না ফেরার শেষ বেলায় - অজানা কার ডাকে সাড়া দিতে । টুকরো টুকরো শব্দ দিয়ে গাঁথা, পান্ডুলিপির সেই ঘরখানি...
আজ রাঙা মাটির কাছাকাছি; তবু বুকে বাজে প্রতিনিয়ত, একরাশ বিষাদ। সময়ের রঙ-তুলিতে ক্রমশ উঠে আসে, এ সভ্যতার শরীরবৃত্তীয় ভূগোল । একদল জন্তুর হিংস্র থাবা, আদল পাল্টে দেয়,-সভ্যতার চতুষ্পার্শ্ব ! সমাজের গর্ভে ওরা প্রত্যহ জন্মদেয়, ক্ষতবিক্ষত নগ্ন সভ্যতার।। এ সভ্যতার সভাগৃহে,প্রতিদিন একটু-একটু করে জমে ওঠে আবর্জনার স্তূপ। প্রতিক্ষণ এক বিশ্রী ঝাঁঝালো গন্ধে, শ্বাসকষ্টে ভোগে-এ সভ্যতার চতুর্দিক। আজ এ সমাজে, আর ফেরি হয়...
সেদিন এসেছিলে, রজনীগন্ধার স্নিগ্ধ সুবাস নিয়ে, বসেছিলে পাশে দূরত্বের চমকিত মৃদু বাতায়নে। মিষ্টি গোলাপ ফুলটা তুলে রেখেছিলাম সযতনে, দেবো তোমায় ভেবেছিলাম, দুটি হাতের বন্ধনে। মেলেনি আঁখি আঁধারে, ঝলসিত তারাদের অরণ্যে, পাইনি ছোঁয়া অনিমেষে মিষ্টি নিবিড় আলিঙ্গনে। রঙিন ফুল পরীদের মাঝে আমি ছিলাম, নিতান্তই সামান্য । আটপৌরে শেকলে বাঁধা আছে অবশ্যই । ব্যথিত হৃদয় অরণ্য রোদন,পোড়ানো দহন সমীরণে, উত্তপ্ত ঝলসানো...
ভালোবাসার পলিতে আত্মবিশ্বাস জন্মাক রক্তের শরীরে বিভীষিকা- নিরন্তর মহামারি গিলে খাওয়ায় ব্যস্ত মাতৃস্থানীয় সৌজন্য। সততার বাণী এখন দাঁতের ফাঁকে আটকে আটপৌরে-জীবনে পা দিয়ে,ভয়ে - আঁটোসাঁটো সেই গিন্নী। মাঝ দুয়ারে অখণ্ড বাতিটা লটকে- ত্রেতা যুগের কিছু কাল সৈনিক। নিভাবার শখে নিতান্ত রেষারেষি, দৃঢ়- দুর্জয় ডুব দিয়েছে জড়তার কুঁয়োর মাঝে।   জীবদ্দশায় কাপড়গুলো পাট করতে শিখেছি মেদহীন মেঘমালা আইনি মৃত্যুর দাগ মুছে দেবার কথা বলেই লাপাত্তা! দায়গুলো...
চুমুকে চুমুকে চায়ের বুদবুদ পৌষের ধোঁয়াটে ঘ্রাণমাখা ঠোঁটে ছড়ায় উত্তাপ! কলাইয়ের মাঠের প্রেমময় আঁচল আহলাদি কুয়াশা জড়ানো বুকে শীতের প্রবন্ধ রচনার ঘোরে একাগ্র তাই,রাতের মলাটের বাম-অলিন্দে এখন নিগূঢ় জ্যোৎস্না! ঘাস শিশিরের ক্ষণিকের অভিসার,জোনাক-সঙ্গের মত নির্বাক প্রহর শেষে নুয়ে পড়ে বিরহে এই শীতসন্ধ্যায় ধোঁয়াটে নিশ্বাস ভরা রাতের উচ্ছ্বাসে! মধ্যমা আর কনিষ্ঠার পাশে প্রমিজ রিং করে খেলা; শীতরাতে শস্যের মতো বর্ধিষ্ণু...
আজ তো মনভাঙার দিন ছিলোনা তবুও ঝন ঝনাৎ ভেঙে পড়লো হৃদয়, শব্দ হলো না কেউ কোথাও টের পেলোনা শুধু কানফাটা মৌন্যতায় চৌচির মনোভূমি। তোর বুকের সাগরে ডুবে গেলো আমার মাস্তুল ছেঁড়াপাল সাথে নিয়ে উড়ে গেলো বিবর্ণসন্ধ্যা, মরচেপড়া স্মৃতি নিয়ে উদাস বসে থাকা ভবিতব্য গাঙচিলের ডানায় আসবে না আর সুখস্বপ্ন। শর্তভাঙার লগ্ন ছিলো না তবুও অকপটে- ছিঁড়ে গেলো অদৃশ্য...
মৃতের পেট চিরে বেরিয়ে আসে কবিতা আগুন জ্বালাও আমার বুকে, আগুন জ্বালাও বিষণ্ণ বর্নমালায় রক্ত কি ঝরাতে শিখনি ? যত পাপ তত শোক বলে কিছু নেই, আমি গিলে ফেলি চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা বড় ক্ষিদে আমার, বড় ক্ষিদে । মৃতের ঘি চন্দন আমার নাসারন্ধ্রে , মসজিদ, মন্দির সেও আমার হৃদপিণ্ডে, তবুও সীমাহীন হাহাকার আকসার কিসের শুদ্ধাচার রমণীর...
হাত পা নেই বিকৃতি সম্বল ট্রাই-সাইকেল চলে চড়া বেয়ে , যুবক বসে মোড়া চরণ-যুগল অগ্রে এক বছর পাঁচের মেয়ে ৷ ওরাও নাকি যাবে অনেকদূর অন্ধকারের বিপজ্জনক পথে স্বপ্ন সেসব ভেঙে ভেঙেই চুর তবুও চড়া স্বপ্ন-দেখা রথে ৷ তিনের মুখে খাবার তোলে এক পরের বাড়ি বাসন মাজামাজি , সেসব কাজেও বিড়ম্বনা অনেক ঢাকা খাবারে মুখ দিতে চায় পাজি ৷ মাড়িয়ে গেছে অনেক...
একান্তে যা কিছু আছে থাক না গোপন! অতলান্তে জন্ম নেওয়া কিছু বুদবুদ ভাষা - যদি বা কখনো সে ভেসে ওঠে প্রগাঢ় ইচ্ছায় বাতাস আলিঙ্গনে ইচ্ছেরেণু ছড়ায় প্রকাশে। তবু প্রকাশের মাঝে থাকে সুচিত ভ্রমণ, গায়ে জড়ায় ইতিহাস শুদ্ধ বর্ণমালা, ভাষা পায় নিরুচ্চার সঙ্গীতের সপ্তক রথ- বেছে নেয় ছান্দসিক গল্প রূপকথার । পরেও যা থেকে যায় সেই তো দোসর, কথা...
সুরঞ্জনা, এখনো কেন ফিরে এলে না তুমি সুনীল আকাশ কালো মেঘে গেছে ঢেকে বুকে নিয়ে ঝড়ের আভাস ফিরে এসো, ভুলে যাও তাকে । সোনালী ফসলে ভরা ওই মাঠে হেমন্তের শিশির ভেজা ঘাসে ফিরে এসে বসো, আগের মতো যত না-বলা কথা বলো হেসে হেসে । দূরে সরে থেকে কি লাভ ? কার লাভ ? বিষাদের ঢেউ ঠেলে আকাশের তারার...
বিষন্ন-জীবনের নদীতীরে ঢেউ উঠে হৃদয়ের লতাপাতা সবুজ রঙে ভরে যায় রাতের ঐশ্বর্যে জোছনারঙ হাসে। দিনে-দিনে আশা জাগে প্রাণে দুঃসহ চেতনার কাংখিত স্বপ্নঘোরে দূরপথে পথ চলি একা বিপন্ন-রাতে কাছে আসে নিসঙ্গ এক নারী। হাতে তার কচিপাতা রঙ দেহে তার আদিমতা ঘ্রাণ প্রেমরসে সিক্ত তার মন কাছে এসে সরে যায় দূরে। কোন এক শরতের বিকেলে মনের আকাশে মেঘঝড়ের সংকেত হটাৎ কেঁদে উঠে মেঘবতী নারী আকাশ...
মেঘের মতো আমার দলা দলা অনুভব সাদা পর্দা রেখেছে ঝুলিয়ে, তোমার বাড়ির ঊর্ধ্বে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে তোমার অনুমতি না নিয়ে আড়াল-আলাপ জমে উঠেছে অনুচ্চ স্বরে যেন রোগী ডাক্তার-সান্নিধ্যে হঠাৎ ভীষণ হাল্কা হয়ে দলা দলা ভাবগুলি বিলিয়ে দিচ্ছে তোমার মধ্যে বাড়ি থেকে সোজা উঠে চেম্বারের পর্দা টেনে তুমি কর শুশ্রূষা হাজির, আমার অর্ধশায়িত নিরালা ভাবের পিন্ডে ঘিরে তোল প্রবোধ-প্রাচীর...    

হনণ।। ঐদ্রিলা

0
আমার বুকে একটা ক্ষত আছে নির্মল্য সেই শৈশবে তোর নোখের আঁচড় , আমার একটা নদী আছে কোন দিন সাঁতারতে এলি না নির্মল্য আমার বেড়ে উঠা স্বপ্নের গাছ তার ডালপালা গুলোকে কি নির্মম ভাবে ছেঁটে দিলে। স্মৃতি সে আজ ঝরাপালক রঙহীন , সাত পাঁকে বাঁধতে কাদায় বেঁধেছিস ঘর নির্মল্য হৃদয় বুঝিস নি, শরীর বুঝেছিস খুব সহজে নিজেকে অনাবৃত করতে পারিস। আমার...
বিকেল আলো ঢিমে নিভুনিভু সন্ধ্যের আঁচলে, প্রশ্ন জমে চোখের তারায় অপেক্ষার আড়ালে। পায়না খুঁজে প্রলেপ চেনা-অচেনা ব্যথারা, লেখা হয়না মনচিঠি .. দিশাহীন শব্দেরা অচিরেই ঝরে কুঁচি গুঁড়ো সুখ গ্রাস করে ব্যস্ততা। অমল যাপন মধুলিকা ক্ষণ মুখরিত চুপকথা .. মননছোঁয়া ভালোলাগা রেশ; বিনিময় নিবিড়তা ফিকে হয় সব-ই যন্ত্রজীবনে .. বাস্তব ইতিকথা ! সন্ধ্যে ছিঁড়ে নামলে আঁধার শহরে নিয়ন জ্বলে, উত্তর আশে সার প্রশ্নেরা ঠিকানা...
কেন এলে তুমি ? এই অবেলায়... কেন এলে বলতো? মেঘে মেঘে অনেকটা সময় যে গড়িয়ে গেছে একলা আকাশ, রাঙামাটি আর সবুজের ভিড়ে হারিয়ে গেছে অপেক্ষার প্রহর। আনমনা ইচ্ছেগুলোও কখন যেন- মরে গিয়ে তৈরী করেছে বিষাদের সুবিশাল ইমারত... কি দেখতে এসেছো তুমি, এইতো- যে কেমন আছি! বিশ্বাস করো, খুব ভালো আছি আমি । গভীর নিশীথে গোপন হৃদয়ে এখন...
তোমরা আমাকে নিয়ে সভা ডেকেছো ঝকঝকে আলোকিত মঞ্চ, সফেদ চাদরে মোড়া টেবিল এক গুচ্ছ তাজা ফুল, কত শত অতিথি এদের সাথে আমি বে-মানান। শরীরটা গুলিয়ে যাচ্ছে বারবার ভাবছো এতবড় আয়োজনে আমি বুঝি ভরকে গেছি, ভুল ভাবনা, রাক্ষস পেট বস্তার চাল দেখে অস্থির হয় কবে শেষ হবে! কবে! চালের দাম সিঁড়ি বেয়ে আকাশের নীলে চুমোচ্ছে জানা ছিল না। অনেক দিনই...
ঝর্ণার প্রেমে পড়ব বলেই টেথিসের বুক আমি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। প্রণয় ডোরে যেদিন ঝর্ণাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি, সেদিন থেকেই আমি একটা শখের পাহাড় কিনে দাঁড়িয়ে আছি। আগে বুঝিনি.... প্রেমানলে পুড়লে পাষাণী মনটাও মোমের মতো গলে যায় ! কখনো অবঘর্ষণ, কখনো বা পার্শ্বক্ষয়... আজ তাই গিরিখাত আর ক্যানিয়ন বুকে নিয়ে বড্ড ভঙ্গুর আমার হৃদয় !! তাইতো, ঝর্ণা যখন গিরিখাতে আছড়ে...
  একটি চুম্বন দেবো বলে কী প্রতিক্ষা ছিল আমার! সারা সন্ধ্যেবলায় কী অপরূপ রঙের সহচর,পরম প্রাপ্তির আঁধারে নুয়ে আছে বৃন্দাবন ঘননীলে মেতে ওঠে নিবু নিবু সোনালী রোদ, মায়ামন্ত্রের নবীন সাজে প্রশান্ত চিত্তে রোমান সীলাস নেমে আসে বিশ্বালয়ে, শান্তির অন্তঃপুরে। সন্ধ্যেবেলার সেই চুম্বনটি আমার রক্ততিলক, ব্রতের বেদমন্ত্রে উত্তরযুগে তন্ত্রাশ্রিত হয়ে অবগাহন করে সোমপুর-মহাবিহার, তীর্থপূজায় গৌড়-বঙ্গে বাগমতী নদীর...
আমার হৃদয়ের একমুঠ মাংস কাঁধে ঝোলানো ঝোলাটির ডিপফ্রিজে নিত্য বহন করে চলি সাত স্তর জমিনের ভারে ভারাক্রান্ত আমি... এখানে আমার শীতের সোনাঝরা আলো ঝলমল সকাল ছিল- পদ্মবিলের জলে সূর্য দেখতাম, সূর্যকে কোলে নিতে গিয়ে বিলের বুকেই শুয়ে পড়তাম মধ্যরাতের গা মাখা জোছনা ছিল--জোছনায় বুকসাঁতার দেয়ার মজাটাই আলাদা ছিল শিমুলতলায় পাতানো টঙ ছিল--প্রাণভরে শিমুল দেখতাম শিমুলের রূপে পাগলপারা...
কিছুই বোঝা যায় না শুধু দেখা যায় পাথরের মুর্তিটা অপলক চেয়ে আছে টোকা দিলে যেন কথা বলে উঠবে অনর্গল। রাতেদিনে বৃষ্টিঝরা বেঘোর কান্নায় ভিজে জবুথুবু নষ্ট হয় সোনালী ফসল; দাঁড়কাক, কাকতাড়ুয়া মাথায় বসে, নামায় অন্ধকার। শিল্পী জয়নুলের দুর্ভিক্ষের মতো, পটুয়া রনবীর টোকাই এর মতো: শিখা অনির্বাণ, রমনার কালীমন্দির উঠোন জুড়ে পথকলি ট্রাস্ট। সীমানা প্রাচীরঘেরা চোখ ধাঁধানো ছড়িয়ে ছিটিয়ে...
ধূসর বিকেল রোদ ছিলনা-চপল চড়ুইর ডানার গন্ধ ছিল শুধু একফালি উদাসী হাওয়া আলোর বিছানো ছায়া গোধূলির নিচোল পাহাড়ী বধূর খোপায় গুঁজে ফুল নিরম্বু সৈকতে দূরে ঐ নিমগ্ন বনশিরীষের আড়াল নাগবল্লরির মতো কোমর দোলায় বধূ ঠোঁটে অনুক্ত শিহরণ! - জলের স্রোতে পাতার নৌকা ওড়ফুলের কিশোরী পাপড়ি আলতা ধূপের শরীর তার- আদিরসের কুঞ্জ দু'ফোঁটা স্বপ্ন ঝরে শ্রান্ত সন্ধ্যার নিগূঢ় নিকানো দেহে ঘরফেরা পাখির ডানার শব্দে খুঁজি আমার...
কবিতা ভাবনা হেঁটে বেড়ায় প্রভাতে, শিশির জমা ঘাসে স্নিগ্ধ মায়াতে, বিধূত আলোর প্রথম সূর্য উদয়ে আকাশ কবিতা জেগে উঠে হৃদয়ে। বেড়ে চলে বেলা বেড়ে চলে কবিতা দিনের আয়ু হিসেব করে দেয় নির্ভরতা, পৃথিবীর সকলে ছুঁটছে কি প্রাণ কি জড়তা সাগর-নদী, পাহাড়-ভূমি, মানব-দানব ক্ষমতা। শহর জুড়ে ব্যস্ততার কবিতা পড়া মহাসড়কে কিংবা গলিতে সময়ের কাছে ধরা, গ্রামের পর গ্রামে রয়েছে যুগে...
রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে তোমার পায়ের আওয়াজ বাজে আমার কানে চোখের তারায় মিতালী করে শিল্পিত কদমের জলছাপ অশ্রুতে লেগে আছে তোমার ব্যথার সোনালি ছাপ! শৈল্পিক মুগ্ধতায় বিভোর হই তোমাতে, বিন্দু বিন্দু প্রেমে শিশিরে ভেজা অভিমানে আহ্লাদে লাল রক্তিম কপোল রঙে, তখন তুমি হয়ে ওঠো আমার অঞ্জলির ঠাকুরঘর বেল পাতা আর ফুলে সাজানো কাসার ঘটি সদ্য তোলা পুজার ফুল, অথবা পুজার ছলে...
পাষানী হালকা হাওয়ায় সাজনে ডগাটা দুলছিলো জোসনার আলোয় পৃথিবীটা হাসছিলো। তখন জেগেছিলো পাখি, জেগেছিলো দুজনার আঁখি। পুকুরের কিনারায় বসে কোলেতে রেখে মাথা, বলেছিলাম সেদিন শুধু ভালবাসার কথা। দুরদুর করেছিলো বুক, সে যে কত আনন্দ কত সুখ। সুবর্না'র হাসির ঝলক হৃদয়কে রাঙ্গায় না দেখলে একদিন অন্তর ভাঙ্গে বেদনায়। কত যে স্বপ্ন কত যে আশা, বাধবো একদিন সুখের বাসা। হঠাৎ হৃদয় আকাশে দেখা দিল...
সাইয়েদা আক্তার ( কবিরানী) প্রিয়তম দর্শনে প্রিয়তমা নই নিবৃত্ত প্রবৃত্তির জের টেনেই তাঁর প্রেমে মত্ত। কি দিন, কি ক্ষণ কিবা বছর কিবা দিব্যলোক কিইবা প্রহর। নিস্পৃহভাবে বারংবার ইচ্ছার জাল বুনি মনে লয় তাঁরে একাধিকবার নয় । যেন শতসহস্র বার শুনি । দর্শন মেলে সেদিন দুজনাতে শরতের নীলচে গগন তলে । আমিও পা বাড়াই তাঁর ডাকে সাড়া দিই সবকিছু...
তখন নিঝুম রাত,স্তব্ধ চারদিক তারাগুলি অপলকে চেয়ে আছে শান্ত পৃথিবীর প্রহরী যেন- নেই মানবের ছায়া কোনদিকে পাখির ডাক নেই কিবা ঘুম জড়ানো কোন শিশুকান্না ৷ চারদিক ঘিরে ঘিরে উদ্দাম নৃত্য করে ঝিঁ ঝিঁ পোকার দল সেই সাথে গেয়ে চলে বিদঘুটে কুরকুর গান ৷ ঘন জমাট বাঁধা ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোথাও কেউ নেই জেগে— যেন ঘুমের দেবী আজ এ পাড়ায় তাঁবু...
ওদের করে কোন ভরসা নেই কঞ্জুমার পণ্যের মতন বিক্রি হচ্ছে জয়োধ্বনি- বুকের উপর দ্বীপ ভেঙ্গে গড়ে তুলেছে মাতাল মিলনের অসংখ্য প্রণয় বুড়িগঙ্গার আত্মায় দূষিত কালো জল; হাঁটু ভেঙ্গে দরজার ওপাশে ঘোলা কিচিরমিচির শব্দে নড়ে উঠেছে অলসতার কারখানা, মধ্যদুপুরের লট নামে ডেকে ফেরা নিষিদ্ধ কাক, দরজার ভিতরে ঠোঁটের উপর ঠোঁট পড়া চুমুকে প্রশান্তির পৃথিবী ছারখার লুটপাট বার্মিজ আচরণ আর যেন প্রতিবন্ধী স্বভাবের ঝাপটা...
একদিন আমি এই শহরের একটি আস্তাবলে ঢুকে আমার সামান্য সম্বল হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার সারাদিনের উপার্জন ছেঁড়া পকেট থেকে গলে পালিয়ে গিয়েছিল। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, টাকাগুলো আর পালাবার জায়গা খুঁজে পেল না? ঘোড়ার মুত, নাদ, চিবোনো ছোলার মিশ্রিত দুর্গন্ধে ভরা বিচ্ছিরি মেঝেটা দুহাতে ঘেঁটে ফিরে এসেছি চুপচাপ, টাকা ফেরত...
একাকী ভাবনা রুমকি আনোয়ার রাতের বিবর্ণ ধূসর দেয়ালে আমি দেখেছি- ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের আর্তনাদ , পঙ্কিল জীবনের অবসানে মুমূর্ষুর আর্তচিৎকার, "আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও।" তারপর জোৎস্না আসে, সহসা আলোয় ভরে যায় দিগন্ত কিন্তু সেখানেও যে রিক্ত জীবনের হাহাকার, শূন্য প্রতিবিম্ভ, জোৎস্না ফেলে যায় বীভৎস নগ্নতার চিহ্ন -সে চিহ্ন এতই স্পষ্ট যে, প্রছন্ন অন্ধকারেও রক্তের রঙ লাল। অবরুদ্ধ জীবনের কাছে...
পল্লব গোস্বামী আজ আবার খুব করে রোদ পোড়াবো আমি; এর দেওয়ালে হিসি করবো, ওর দেওয়ালে ছুঁড়ে মারবো হরপ্পার চাঁদ। কব্জি ডোবানো.. উষ্ণ-প্রস্রবণ তুলে আনবো কুমারীর বুক থেকে। বন্ধুদের সাথে খিস্তি করবো প্রেমিকাকে নিয়ে গাঁজাখুরি গল্প খুঁজবো বহুরাত। যতটুকু হাঁটা পথ - তার থেকেও বেশি ছুটে যাবো ধান-সায়রের পাড় বরাবর। আলব্রাটসের মতো ডানা মেলে দেব, বাকিটুকু চকলেট-জলে। আজ, যা হবার হয়ে যাক... যেভাবেই...
অরণ্য আপন আমার বাড়ির এক চিলতে  উঠান থেকে তোমার বাড়ির গাছ দেখা যায় আমার বাড়ির মাথার কাছে উঠা চাঁদ না দেখে আমি তোমার বাড়ির গাছ দেখি কত আরাম লাগে! কত সুখ লাগে! কত ফুল ফোটে মনের বাগে বাগে! আমার বাড়ির চাঁদের চেয়ে তোমার বাড়ির গাছ অনেক সুন্দর আমার ভালোবাসার চেয়ে তোমার অভিমান অনেক সুন্দর তোমার অভিমান দেখার সুখে আমি বেঁচে...
পিছুটান চলে যাই চলে যাবো করে করে চলেই তো গেছো অনেকটা পথ.... সেই মেঠো পথ , রাঙামাটি ধুলো , রূপালী সুতো নদী পার করেছ অনেকদিন । কোপাই এর জলে পা ডুবিয়ে নাম ধরে ডেকেছিলে তাও বছর দশেক আগে ছবিগুলো তো এখনও ঘরের দেওয়ালে অপরিবর্তিত সেই টানা দড়িতে এখনো অপেক্ষারত সময়। সম্মুখে আলো, এগিয়ে যেতে হবে...

কল্পচুল

0
স্বপ্ননীল রুদ্র   জালের মতো অজস্র ফুটো-সম্বলিত এই হাত; রেখাবিহীন পাতা, সেখানে তুমি দেখ অসঞ্চয়, তোমার দৃষ্টি তরল হয়ে জলবৎ গলে যায় বোঝাতে পারি না আমি কতখানি আত্মক্ষয়। আমার চাঙর ভেঙ্গে তোমার দৃষ্টির স্রোতে পড়ে গুলে গুলে দুলে দুলে মিলিয়ে যায় হয়ে ঘোলাটে, পড়ে থাকে টাকের মতন গাঢ় কেশবিরলতা; তোমার দৃৃষ্টিকল্লোল যদি মর্জি বদলে উপচে হাঁটে আবার পরবর্তী জোয়ারে এই ভেবে...এইটুকু শুধু অক্সিজেন নিয়ে সারাদিন গড়ি কল্পচুল, জলের স্রোতের নিচে ফুটো-মুঠো জাগিয়ে...
পঙ্কজ চন্দ্র শীল এসো সবাই পাথর ঠুকে আদিম হই না হয় মানুষ খুন করি! কিংবা পশু... আগুনে পুঁড়ে খাই কাঁচা মাংস চলো ফিরে যাই আদিমে। শাড়ির উপর শাড়ি পরেও আর লাভ নেই বুকের বাড়ন্ত স্তন দেখলেই অতৃপ্ত থাকে কাপুরুষের চোখ যৌনাঙ্গে খড়া নজর, ঢুকিয়ে দেয় জয়ের পতাকা! চলো আদিমে ফিরে যাই কয়েকটা লতা-পাতায় ঢেকে নেই যৌনাঙ্গ, ঢেকে নেই বুকের বাড়ন্ত স্তন। এসো...
তারপর...অন্য কোন দেশে   মাঝে মাঝে নিজকে খুন করতে ইচ্ছে করে পাগলের চোখ নিয়ে দেখতে থাকি ফুল আর ফুল... নিজের চেহারা ভুলে যাই হঠাৎ করে তোমার। জীবনের কত গল্প মনে পড়ে-হাসতে থাকি আমার যে পাখির জীবন ভীষণ ভালো লাগে! নষ্ট হওয়া জীবন পুড়তে দিয়েছি;কালো ধোঁয়াই খুব সহজে একটা মানুষ উড়ে যাচ্ছে অন্য কোন দেশে। শরতের রাস্তায় কুকুরের...

কালো ছেলেটা

0
কবিতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই যে কালো ছেলেটা-- যার কথা তোমাকে আজ বলবো ভেবেছি ... জানো , সে আর ফেরেনি । ছেলেটার নাম কি ছিল তাতে কি আসে যায়... অমল , বিমল , কমল অথবা স্বপন ! ছেলেটা কালো ছিল, বড্ড ভালো ছিলো। আমার ক্লাসেই সে পড়তো , লক্ষ্য করেছি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আমাকেই ,শুধু আমাকেই দেখতো। কালো রঙে যে আমার...

Hits: 0